ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে সৌদি যাচ্ছেন বেবিচকের প্রতিনিধি দল

প্রস্তাব আরও ৩৫টি সাপ্তাহিক ফ্লাইটের

ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে সৌদি যাচ্ছেন বেবিচকের প্রতিনিধি দল
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:১৮ | আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:২২

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন চুক্তি সই করতে সোমবার মধ্যরাতে সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন বেবিচকের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকছেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ ছিদ্দিক। অন্য সদস্যরা হলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিএ) ড. এবিএম মাহবুব আলম এবং বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী মো. সফিউল আজম। তারা সোমবার মধ্যরাতে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হবেন।

সিভিল অ্যাভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্ধারণ। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলোর ল্যান্ডিং ও টেক-অফের সময়সূচি (স্লট)-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান এবং হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের ভ্রমণ আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দুই দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইনস মিলিয়ে সপ্তাহে মোট ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। তবে সৌদি আরবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, সারা বছর চলা ওমরাহ যাত্রী এবং হজ মৌসুমের অতিরিক্ত যাত্রীর তুলনায় এই সংখ্যা অপ্রতুল বলে মনে করছে বাংলাদেশ। এ কারণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সপ্তাহে মোট ফ্লাইট সংখ্যা ৮৪টিতে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। অর্থাৎ বর্তমানে পরিচালিত ৪৯টি ফ্লাইটের সঙ্গে আরও ৩৫টি সাপ্তাহিক ফ্লাইট যুক্ত করার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনা রুটে ফ্লাইট বাড়বে। এতে টিকিট–সংকট কমবে এবং ভাড়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এভিয়েশন খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হজ মৌসুম এলেই বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে অবতরণ ও উড্ডয়নের স্লট পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে স্লট বরাদ্দ, অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি বা হঠাৎ শিডিউল পরিবর্তনের কারণে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কখনো কখনো ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলের ঘটনাও ঘটে। এর প্রভাব পড়ে আশকোনা হজ ক্যাম্প থেকে শুরু করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত। একই সঙ্গে এয়ারলাইনসগুলোকে বহন করতে হয় অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনস দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে তাদের পছন্দনীয় ও ব্যবসায়িকভাবে সুবিধাজনক সময়ে স্লট পেতে সমস্যায় পড়ছে। অনেক সময় মধ্যরাত বা অনুপযোগী সময়ে স্লট দেওয়ায় যাত্রী ভোগান্তির পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যায়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কোনো এয়ারলাইনস যাতে এ ধরনের সমস্যায় না পড়ে, সে বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

এবারের সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সৌদি আরবের স্লট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস–বাংলার প্রতিনিধিরা তাদের অপারেশনাল সমস্যা এবং সুবিধাজনক সময়ে স্লট পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন।

বেবিচকের মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কাউছসার মাহমুদ সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে চুক্তি চূড়ান্ত করতে বেবিচকের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল–সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

আরও পড়ুন

×