আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘আদিবাসী জনগণ: জীবন, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতির সম্মান’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে অতিথিরা সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমির মালিকানা অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আদিবাসী জনগণ: জীবন, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতির সম্মান’ শীর্ষক সেমিনারে এই দাবি জানানো হয়। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ ১৭টি অধিকারভিত্তিক সংগঠন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইলিরা দেওয়ান।
সেমিনারে আট দফা দাবি ও বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবছর সরকারিভাবে আদিবাসী দিবস পালন করা, সংবিধানে ‘উপজাতি, নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দগুলো বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ শব্দ অন্তর্ভুক্ত করা, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে অবিলম্বে কার্যকর করা, সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন, পাহাড় ও আদিবাসীদের সুরক্ষার জন্য একটি সরকারি সেল গঠন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং আদিবাসীদের সংস্কৃতি মাতৃভাষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ।
সেমিনারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের সাংবিধানকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আদিবাসীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে ভবিষ্যৎ সম্ভবনাকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং তাদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
বাংলাদেশ আদবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, আদিবাসীরা সম্মানের সঙ্গে সবাইকে নিয়ে পথ চলতে চায়। বর্তমান সরকার আমাদের নতুন কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আদিবাসীদের জন্য একটা উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, আদিবাসীদের যেমন প্রাপ্তি আছে, তেমনি হতাশা এবং বঞ্চনাও আছে। আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো সামনে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, এটাকে নিয়ে কীভাবে ইতিবাচকভাবে এগোতে পারি, সেদিকে জোর দিতে হবে।
আরেক সংসদ সদস্য মাধবী মারমা বলেন, আদিবাসীদের জীবন বিপন্ন। সমান্তরালভাবে আমাদের কাজ করা দরকার। তিনি আরও বলেন, জুম চাষ নিয়ে একটি মহল পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে বলে নেতিবাচক ধারণা ছড়াচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই জুম চাষ হচ্ছে, যা পরিবেশবান্ধব হিসেবেই স্বীকৃত। আমাদের জুম চাষকে আরও কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করতে হবে।
মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আদিবাসীদের সংস্কৃতি, সমাজ সবকিছু ভূমির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি আদিবাসীদের ন্যায্য ভূমি অধিকার নিশ্চিতে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, বর্তমান সরকার আদিবাসীদের উন্নয়নে ইতিবাচক কথা বলে; যা আমাদের আশান্বিত করে। তবে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই আমাদের আশাকে সার্থক করতে পারে।
গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী ড. ঈশিতা দস্তিদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে ২৭ হাজারের বেশি আবেদন জমা থাকলেও কমিশনের কার্যক্রম কার্যত স্থবির। দ্রুত কমিশনকে সক্রিয় করা, আদিবাসীদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প ও ইকো-ট্যুরিজম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
- বিষয় :
- আদিবাসী