তরুণদের সঙ্গে সমাজ-রাষ্ট্রের ইতিবাচক সমন্বয় প্রয়োজন: হোসেন জিল্লুর
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৫২
জুলাইয়ের আন্দোলনে মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, সেই ভিত্তিতে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মেধাবিকাশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে শুধু তরুণদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পরিবর্তনের পক্ষে ও বিপক্ষে নানা শক্তি রয়েছে। তাই, তরুণদের সঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের শক্তির একটি ইতিবাচক সমন্বয় প্রয়োজন।
আজ শনিবার পিপিআরসির উদ্যোগে আয়োজিত ‘অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যের বহুমুখী সম্ভাবনা’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বও করেন হোসেন জিল্লুর রহমান।
রাষ্ট্রের বড় ধরনের সংস্কার কার্যকর করতে হলে একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ছোট ছোট পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তার মতে, সংবিধান, রাষ্ট্রকাঠামো বা আইন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও সংস্কার আনতে হবে। তা না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবে দৃশ্যমান না হয়ে নথি ও নীতিমালার মধ্যেই আটকে যেতে পারে।
শিক্ষা খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি কমিশন গঠন বা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করলেই শিক্ষার সংকটের সমাধান হবে না। শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি, শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মতো বিষয়গুলোতেও পরিবর্তন আনতে হবে। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন এবং ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্যে ঔপনিবেশিক আমলের কিছু প্রবণতা এখনও দেখা যায়। এই সংস্কৃতি থেকে বের হতে প্রতিষ্ঠান বদলের পাশাপাশি মানুষের আচরণ ও মূল্যবোধেও পরিবর্তন দরকার। পরিবর্তনের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ব্যক্তিরাও নিজেদের কতটা বদলাতে পারছেন, তার ওপর।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনের উদ্যোগ রাজধানীকেন্দ্রিক হলে এর সুফল সর্বত্র পৌঁছাবে না। এজন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন নেতৃত্ব তৈরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন—সব ক্ষেত্রেই স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
আলোচনায় অলটারনেটিভসের ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটির সংগঠক তাজনূভা জাবীন বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির পুনর্গঠনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যাংকারসহ বিভিন্ন পেশার তরুণদের সম্পৃক্ত করা দরকার। নারীদের রাজনৈতিক পরিসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এম খালিকুজ্জামান, বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা মুনীম মোবাশ্বের, কৃষি উদ্যোক্তা উম্মে কুলসুম পপি, শিক্ষার্থী ডাও সিং নু মারমা ও ফসল ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হোসাইন প্রমুখ।
- বিষয় :
- পিপিআরসি
- হোসেন জিল্লুর রহমান