সাভারে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, মরদেহ নিয়ে পীরগাছা থানার সামনে বিক্ষোভ
থানার সামনে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেন। ছবি: সমকাল
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৪২ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৪৮
ঢাকার সাভারে নিহত ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল হোসেন বকশীর (২৯) মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুরের পীরগাছা থানার সামনে নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী। আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে থানার সামনে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ এ বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা মনোয়ারুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান।
পরে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতীবান্ধা গ্রামে ফিরে যান। সেখানে বেলা ৩টা ১০ মিনিটে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মনোয়ারুলকে দাফন করা হয়। তার বাড়ি ওই গ্রামে। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তার বাবার নাম জাফর হোসেন বকশী। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারে বসবাস করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রাম থেকে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার বাবা পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করে। এর ভিত্তিতে সাভার থানা-পুলিশের সহযোগিতায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকার সাভারে লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায় পীরগাছা থানা-পুলিশ।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মণ বলেন, সাভারে অভিযান চালানোর সময় মনোয়ারুল হোসেন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে আহত হন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, ‘এখন বিষয়টাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। যা আদৌ সঠিক নয়।’
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিখোঁজ কিশোরীর সঙ্গে মনোয়ারুল হোসেন বকশীর ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, ওই কিশোরী ও সৌমিক মনোয়ারুলের সাভারের বাসায় অবস্থান করছিলেন। তবে পুলিশ অভিযান চালানোর আগেই তারা ওই বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।
মনোয়ারুলের স্বজনদের অভিযোগ, কিশোরীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযানের সময় তার বাবাও পুলিশের পোশাক পরে সঙ্গে ছিলেন। ওই সময় মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মনোয়ারুলের ছোট ভাই মমদেল হোসেন বকশী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’
তবে নিখোঁজ কিশোরীর বাবা বলেন, ছাত্রদল নেতা কীভাবে মারা গেছেন, তা তিনি জানেন না। অভিযানের সময় তিনি পুলিশের সঙ্গে ছিলেন না।
পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, ‘থানার সামনে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ রেখে বিক্ষোভ করা হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। তবে ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার চাই আমরা।’
পীরগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিলন হোসেন বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, নিহতের স্বজনদের সাভার থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের কোনো সদস্যের অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে কিছু মানুষ থানার সামনে এসেছিল। পরে তারা লাশ নিয়ে ফিরে গেছেন। তাদের প্রশ্ন ছিল, থানা পুলিশ কেন সেখানে গেছে, কারা গেছে?