যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে বাংলাদেশ: সারাহ কুক
ছবি: বাসস
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:১২
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেন, তবে বাংলাদেশ থেকে সম্প্রতি আশ্রয়ের আবেদন করা খুব কমসংখ্যকই অনুমোদন পেয়েছে।
রোববার ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার। মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার প্রতিরোধ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসন নিয়ে আলোচনা হয়।
সারাহ কুক বলেন, যাদের যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে, তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাজ্য সরকার বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি জানান, যাদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং যারা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে আসছেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা এই সহায়তা পাবেন না।
অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে যৌথ উদ্যোগ
বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি এবং নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার বন্ধে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান। পাশাপাশি ‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। দুই দেশের মধ্যে অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বাংলাদেশের প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মী তৈরি এবং বৈধ অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
দক্ষ কর্মী তৈরিতে আগ্রহ যুক্তরাজ্যের
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগে দক্ষ কর্মী তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও সাশ্রয়ী শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
বৈঠকে অভিবাসন বিষয়ে জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর রায়ান ডানকানসন এবং মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- যুক্তরাজ্য
- বাংলাদেশ
- অভিবাসী