ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে পুত্রবধূদের হামলা, শাশুড়ি-ননদ হাসপাতালে

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে পুত্রবধূদের হামলা, শাশুড়ি-ননদ হাসপাতালে
×

ফাইল ছবি

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৫৪

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পুত্রবধূ ও নাতির হামলায় ফয়জুননেসা নামে এক বৃদ্ধা এবং তার মেয়ে আমেনা বেগম আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

আজ রোববার সকালে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ফয়জুননেসা (৮০) সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসে থাকা তার দুই ছেলের নির্দেশে তাদের স্ত্রী ও ছেলে নিজ বাড়িতে এ হামলা চালায়। এর আগেও তিনি তাদের হাতে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। 

হামলায় অভিযুক্তরা হলেন- বৃদ্ধার দুই পুত্রবধূ জোসনা বেগম, নাইমা বেগম এবং নাতি মো. রিপন (২৬)। জোসনা বেগম ও নাইমা বেগম প্রবাসী শাহ আলম ও ফয়েজ আহাম্মদের স্ত্রী এবং রিপন শাহ আলমের ছেলে। 

জানা গেছে, ফয়জুননেসার চার ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। ২০১৮ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী মো. নুরনবী মারা যান। এর পর থেকে তিনি ছেলেদের সঙ্গে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার একই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। গত কয়েক বছর ধরে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে বৃদ্ধার সঙ্গে প্রবাসী দুই ছেলের বিরোধ চলছে। 

ঘটনার সময় পুত্রবধূ জোছনা ও নাইমা বৃদ্ধার আবাদ করা সবজি বাগান বিনষ্ট করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। এর একপর্যায়ে দুই পুত্রবধূ ও নাতি একত্রিত হয়ে বৃদ্ধার ওপর হামলা চালান। এসময় বেড়াতে আসা বৃদ্ধার ছোট মেয়ে আমেনা বেগম তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে বৃদ্ধাসহ তার মেয়ে আহত হলে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

প্রবাসে থাকা তার দুই ভাই মায়ের ভরণপোষণ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করে ফয়জুননেসার মেয়ে আমেনা বেগম বলেন, ‘আমার মা ভাইদের নামে বাড়ির জমি লিখে দিচ্ছি না বলে তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের দিয়ে মায়ের ওপর হামলা করিয়েছে। আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও মারধর করে। এর আগেও তারা আমার মাকে একাধিকবার মারধর করেছে।’ 

দাদিকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নাতি মো. রিপন জানান, দাদার মৃত্যুর আট বছর পার হলেও দাদী ফয়জুননেসা তাদেরকে ওয়ারিশি কোনো সম্পদ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এটা নিয়ে দাদীর সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে। ঘটনার সময় সিমের চারা রোপণ নিয়ে তার মা ও চাচীর সঙ্গে দাদী ফয়জুননেসার কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন

×