ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‌্যাগিং

ময়লা পানি পান করানো, জোর করে ধূমপান, গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‌্যাগিং
×

ফাইল ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৩৭

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘ম্যানার শেখানো’ কিংবা পরিচিতির নামে বিভিন্ন বিভাগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নানাভাবে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে বাইরে মুখ না খুলতে নানারকম হুমকি দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

জানা যায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইন, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ফার্মেসি ও লোকপ্রশাসনসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিভাগগুলোর শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠে, হল ও ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী মেস এবং কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহরের মেসগুলোতে এসব র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, ট্যুরিজম বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ময়লা পানি পান করানো, নবনির্মিত ১০ তলা ভবনের ছাদে উঠে ছবি তুলে আনা, ১০ ধরনের হাসি দেওয়ানো, জোরপূর্বক নাচানোসহ বিভিন্ন জড়পদার্থকে ৭০-৮০ বার পরিচয় দিতে বাধ্য করানো হয়।

এসব ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন– বিভাগটির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সানি নেহালী, সানাউল করিম, মেহেদী হাসান, রিয়াদ হাসান, সজীব, প্রীতম, হাসিব, সারা, নির্ঝরা ও ফাইজা এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আমিরুল অনিসহ কয়েকজন।

লোকপ্রশাসন বিভাগে ওরিয়েন্টেশনের পর থেকেই ম্যানার শেখানোর নামে জুনিয়রদের গালিগালাজ ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে চেক করার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে আল-ফিকহ বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষেও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নবীন শিক্ষার্থীকে ধূমপানে জোর করা ও গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বিভাগটির একই বর্ষের সাজ্জাদ আলীর বিরুদ্ধে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক নবীন ছাত্রীকে পরিচয়ের নামে অনলাইনে হেনস্তার অভিযোগ এসেছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে র‌্যাগিংয়ের শিকার একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ওরিয়েন্টেশনের পর থেকেই ম্যানার শেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে হয়রানি করা হয়। কখনও গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ট্যুরিজমের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমিরুল অনি ছাত্রদলের পরিচয়ে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে বিষয়গুলো প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেন। কথা না শুনলে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা শঙ্কা হতে পারে বলেও হুমকি দেন।

অভিযুক্ত সানি নেহালী অভিযোগের বিষয়ে আংশিক স্বীকার করে জানান, এসব কার্যক্রমে তিনি একা জড়িত ছিলেন না। একই ব্যাচের প্রায় সবাই বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানো হতো। তিনি বলেন, ‘আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে। সবাই করেছে, কিন্তু নাম এসেছে শুধু আমার।’

অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে সারা, নির্ঝরা ও ফাইজা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা সব জায়গায় ছিলাম না।’ এ ছাড়া অন্য একাধিক অভিযুক্তের সঙ্গে যোগযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন,র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সভাপতিকে নোটিশ দিয়ে বিষয়গুলো তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ট্যুরিজমের রিপোর্ট হাতে এসেছে। এই সপ্তাহে সভা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। 

আরও পড়ুন

×