প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ঢাকায় নিলেও, বাঁচানো গেল না জয়নব-কুলসুমকে
জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেওয়া তিন মাসের দুই শিশু মোছা. জয়নব ও মোছা. উম্মে কুলসুম। ফাইল ছবি
আহমেদ রাজু, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ২১:০৭
দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা থমকে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নতুন করে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেওয়া তিন মাসের দুই শিশু মোছা. জয়নব ও মোছা. উম্মে কুলসুম। তবে শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বুধবার মারা গেছে শিশু দুটি।
আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
জয়নব ও উম্মে কুলসুম কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা দোকান কর্মচারী মো. নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির সন্তান। গত ৪ মে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) জন্ম নেয় তারা। জন্মের পর থেকেই বুক ও পেটের অংশে জোড়া লাগানো ছিল দুই বোনের।
জন্মের পর চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় শিশু দুটিকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একাধিক ধাপে অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের আলাদা করা সম্ভব হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন ছিল আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা। তিন মাস পর শিশু দুটিকে আবার ঢাকায় আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।
তবে চরম আর্থিক সংকটের কারণে সেই চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না পরিবারের পক্ষে।
গত ৩০ জুলাই শিশু দুটির চিকিৎসা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জয়নব ও উম্মে কুলসুমের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারসহ যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসানকে ফোন করে দ্রুত তাদের ঢাকায় নিয়ে আসার পরামর্শ দেন।
সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে সোমবার সকালে শিশু দুটিকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন নাহিদ হাসান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সেদিনই তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়।
কিন্তু চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে বুধবার বিকেলে না ফেরার দেশে চলে যায় জয়নব ও উম্মে কুলসুম।
সন্তানদের হারিয়ে শোকাহত বাবা নাহিদ হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। চিকিৎসকরাও চেষ্টা করছিলেন। আমরা নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। কিন্তু আমার কোলজুড়ে আসা ফুটফুটে সন্তান দুটিকে আর বাড়ি ফিরিয়ে নিতে পারলাম না। আল্লাহ তাদের তুলে নিয়েছেন। এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি যেন আমাদের দেন।’
বুধবার সন্ধ্যার পর শিশু দুটির মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন নাহিদ হাসান ও তাঁর স্বজনরা। দুই শিশুর মৃত্যুতে বিলগাথুয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
- বিষয় :
- ঢাকা
- চিকিৎসা
- প্রধানমন্ত্রী