সিলেটে দম্পতি ও গৃহকর্মী ‘প্রেমিকা’কে হত্যা করেন রঙমিস্ত্রি বাবুল: পুলিশ
আটক বাবুল মিয়া
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৩৯
সিলেট নগরের রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে সাবেক কয়লা ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনাকে হত্যার অভিযোগে বাবুল মিয়া নামে এক রঙমিস্ত্রিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে বাবুলকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
আটক বাবুল মিয়া কুমিল্লার চাঁদপুরের নুর মিয়া কবিরাজের ছেলে। তিনি রায়নগর এলাকার একটি কলোনিতে থাকেন।
বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ওই বাসায় রঙের কাজ করার সুবাদে গৃহকর্মী তাহমিনা আক্তারের (১৫) সঙ্গে বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাহমিনা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দুজন একটি কক্ষে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাবুল সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন।
এসএমপি কমিশনার বলেন, তাহমিনার চিৎকার শুনে সুরাইয়া বেগম (৭২) এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৮২) তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন বাবুল। পরে বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি।
বুধবার সকালে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় সাবেক কয়লা ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত তাহমিনা নগরীর জল্লারপার কলোনির দিনমজুর আফতাব মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বাসার ভেতর থেকে নারীদের চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। সকাল ১০টার দিকে দোতলার বারান্দায় রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
- বিষয় :
- সিলেট
- দম্পতি নিহত
- সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ
- পুলিশ