ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

হাম ও উপসর্গে আরও পাঁচ মৃত্যু

হাম ও উপসর্গে আরও পাঁচ মৃত্যু
×

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৪৫

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় চার জেলায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও পাঁচজন মারা গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে একজন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বার্তা অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, রাজশাহী, বরিশালে একজন করে মারা গেছে। এই হিসাব গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত।

একই সময়ে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে; ৯৪১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নতুন রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৫ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা হলো এক লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪ জন।

অধিদপ্তর বলছে, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে আসা রোগীর মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৮৭৯ জন; ঢাকা বিভাগে ৩৪০, রাজশাহীতে ২৬, সিলেটে ৮৯, চট্টগ্রামে ২২৮, বরিশালে ৮০, ময়মনসিংহে ৫৬, খুলনায় ৫৪ ও রংপুরে ছয়জন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ জন। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৮৫ জন; নিশ্চিত হামে ৯৯ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
     
গণটিকাতে থামেনি সংক্রমণ    

গণটিকা দেওয়ার প্রায় তিন মাস পরও দেশে থামছে না হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু। প্রতিদিনই প্রায় এক হাজারের বেশি মানুষ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, অন্তত গত দুই দশকে দেশে হামে এত মৃত্যু ও এত বেশি রোগীর সংখ্যা দেখা যায়নি।

জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজীর আহমেদ বলেন, ‘২০২০ সালে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির পর ২০২৪ সালেও একই ধরনের কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি; যা ছিল বড় ভুল।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫ সালে বছরজুড়ে নিয়মিত টিকাদানেও গাফিলতি ছিল। চলতি বছর গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ লাখ শিশু এর বাইরে রয়ে গেছে; এটিও বড় ধরনের ভুল।’ এ কারণেই এখন পাঁচ বছরের বেশি এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও হামের ঝুঁকিতে পড়েছে। এমনকি বেশি বয়সী মানুষের মধ্যেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান এই জনস্বাস্থ্যবিদ।

আরও পড়ুন

×