ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন

বাংলাদেশের সরকারি কেনাকাটার তথ্য প্রকাশের তাগিদ

বাংলাদেশের সরকারি কেনাকাটার তথ্য প্রকাশের তাগিদ
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:১৯

বাংলাদেশে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য সবার জন্য প্রকাশের সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটি আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা বাড়াতে বাজেটের নথিপত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি অনুযায়ী প্রস্তুত করা ও সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (সিএজি) আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীনতা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘২০২৬ ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট: বাংলাদেশ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে সময়মতো বছরের শেষ আর্থিক বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করে আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তারা আগের সরকারের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের নির্বাহী বাজেট প্রস্তাব ও অনুমোদিত বাজেট অনলাইনে উন্মুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন না হলেও বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে নির্ভরযোগ্য ছিল। ঋণের বাধ্যবাধকতা-সংক্রান্ত তথ্যও সবার জন্য সহজলভ্য ছিল। এ ছাড়া বাজেট নথিপত্রে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্জিত রাজস্বসহ সরকারের পরিকল্পিত ব্যয় ও আয়ের যুক্তিসংগত ও মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া গেছে।

কিছু ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সরকারের নির্বাহী কার্যালয়গুলোর পরিচালন খরচের আলাদা হিসাব বাজেটে ছিল না, কিংবা বাজেট থেকে রাজস্ব ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সরকারের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। সরকারি হিসাব পর্যালোচনা করতে পারেনি তারা। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত ই-জিপি ব্যবস্থা চালু হলেও এতে প্রবেশাধিকার বা তথ্যের সহজলভ্যতা আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে।

প্রতিবেদনে আর্থিক খাতে পূর্ণ স্বচ্ছতা ফেরাতে বাংলাদেশ সরকারের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চুক্তি সংক্রান্ত মৌলিক তথ্য সবার সামনে আনা, অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে বাস্তব আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখা, প্রধান নিরীক্ষা কার্যালয়কে পর্যাপ্ত অর্থ ও প্রয়োজনীয় স্বায়ত্তশাসন দেওয়া।

এ ছাড়া সিএজি যেন কোনো ধরনের অহেতুক হস্তক্ষেপ ছাড়া সময়মতো পুরো বার্ষিক বাজেট নিরীক্ষা করতে পারে, তা নিশ্চিত করার ওপরে জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন

×