ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

নারী কেবিন ক্রুর যৌন হয়রানির মামলা ৪.৫ মিলিয়ন ডলারে রফা 

নারী কেবিন ক্রুর যৌন হয়রানির মামলা ৪.৫ মিলিয়ন ডলারে রফা 
×

ছবি-সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক 

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:০৭

কর্মক্ষেত্র নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে নারী কেবিন ক্রুদের দায়ের করা এক দশকের পুরোনো একটি মামলা ৪.৫ মিলিয়ন কানাডীয় ডলারে নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়েছে কানাডার বিমান পরিবহন সংস্থা ওয়েস্টজেট।

সাবেক নারী কেবিন ক্রু ম্যান্ডালেনা লুইসের অভিযোগের পর এই আইনি লড়াই শুরু হয়। লুইসের অভিযোগ ছিল, এক পাইলট তাকে ও তার এক সহকর্মীকে যৌন নির্যাতন করা সত্ত্বেও ওয়েস্টজেট ওই পাইলটকে ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্বে বহাল রাখে, যার ফলে অন্য কর্মীরা ঝুঁকিতে পড়েন।

কয়েক মাসের দরকষাকষির পর চূড়ান্ত সমঝোতার শর্তাবলী গত সোমবার অনুমোদন দিয়েছেন ব্রিটিশ কলাম্বিয়া আদালতের একজন বিচারক। আইনি ফি ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর সমঝোতার অর্থ মামলায় সম্পৃক্ত ৩ হাজার ৪৫২ জন কেবিন ক্রুর মধ্যে বণ্টন করা হবে।

সমঝোতার অংশ হিসেবে ওয়েস্টজেট স্বাধীন তৃতীয় পক্ষ নিয়োগে সম্মত হয়েছে, যারা কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির পরিধি, ঘটনার তথ্য গোপন বা রিপোর্ট না করার প্রবণতা এবং কীভাবে অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করবে। 

তবে মামলায় পাইলটদের জন্য যৌন হয়রানিবিরোধী বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, ওয়েস্টজেটের অপরাধ স্বীকার এবং কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গের দায় স্বীকারের যে দাবি জানানো হয়েছিল, তার কোনোটিই চূড়ান্ত সমঝোতা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

২০১৬ সালের এপ্রিলে এয়ারলাইনসটির বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করেন ম্যান্ডালেনা লুইস। তবে এই সমঝোতা তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। কেননা, দুই বছর আগে ব্যাগেজ ফি সংক্রান্ত আরেকটি মামলায় ওয়েস্টজেট ১২.৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনেছে। সে তুলনায় যৌন হয়রানির এই মামলার সমঝোতা মূল্য অনেক কম। 

'মামলাটি শেষ হওয়ায় আমি স্বস্তি পেয়েছি... তবে আমি সত্যিই ক্লান্ত ও হতবিহ্বল'- বলেন লুইস। তিনি জানান, আইনজীবীরা তাকে পরামর্শ দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রফার এই অর্থ ভালো আদায়।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার আইন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিতে কর্মরত সব নারী কেবিন ক্রুকে এই মামলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কারণ লুইসের অভিযোগে বলা হয়েছিল, ওই সময়ে ওয়েস্টজেট তার কর্মীদের হয়রানিমুক্ত কর্ম পরিবেশের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা রক্ষা না করে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। নিপীড়নের প্রতিবেদন ও হয়রানি রোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার মাধ্যমে ওয়েস্টজেট নীতিমালা ভঙ্গ করেছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

লুইস জানান, ২০১০ সালে তার বয়স ছিল ২৫ বছর। ওই সময় হাওয়াইতে অবস্থানকালে ওয়েস্টজেটের এক পাইলট তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। আদালতকে দেওয়া নথিতে তিনি উল্লেখ করেন, একই পাইলট ২০০৮ সালে অন্য এক নারী কেবিন ক্রুকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন।

লুইস এই বিষয়ে ওয়েস্টজেট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও ওই পাইলটকে কোম্পানিতে বহাল রাখা হয়। উপরন্তু ২০১৬ সালে 'ঔদ্ধত্য ও শৃঙ্খলাভঙ্গের' অভিযোগে লুইসকে চাকরিচ্যুত করা হয়। 

লুইস জানান, তিনি হাওয়াইয়ের মাউই এলাকার পুলিশের কাছে যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি রিপোর্ট করেছিলেন, কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওয়েস্টজেট কৌশলে ওই পাইলটের ফ্লাইটের রুট বদলে দেয় যাতে তিনি হাওয়াইতে পুলিশের মুখোমুখি না হন।

২০১৮ সালে ইউএস অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টস ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি কেবিন ক্রুর ওপর একটি জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, ৬৮ শতাংশ কর্মী তাদের কর্মজীবনে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এদিকে, লুইসের নিপীড়নের অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থতা কিংবা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সঠিকভাবে তদন্ত না করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ওয়েস্টজেট।

শুধু এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, 'উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এই সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরে আমরা আনন্দিত।' এয়ারলাইনটি যোগ করে, 'আমরা ওয়েস্টজেটের প্রতিটি কর্মীর সুরক্ষা ও সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন

×