ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

সিএনএনের বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের ‘পলায়ন’ যে বার্তা দিচ্ছে

ট্রাম্পের ‘পলায়ন’ যে বার্তা দিচ্ছে
×

ছবি- এপি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৫২

ইরানের হামলার ঝুঁকি এড়াতে গত মাসে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে প্রথমে খাবারের গাড়িতে লুকিয়ে ও পরে ছোট বিমানে করে ন্যাটো সদস্যভুক্ত রাষ্ট্র তুরস্ক থেকে বের হতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। বুধবার ট্রাম্প নিজেও ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। খবরটি বাইরে আসার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পরাশক্তি একটি রাষ্ট্রের প্রধানের এভাবে কোথাও থেকে বের হতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে নতুন একটি বাস্তবতা সামনে নিয়ে আসছে। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই যুদ্ধের রেশ হয়তো ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদকালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বাকি জীবন এক ধরনের ঝুঁকির মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে থাকতে হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর সামনে যে পথ খোলা ছিল, সেটি ব্যবহার করেই তারা ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে বের করে এনেছে। প্রথমে খাবার গাড়ি ও পরে ছোট বিমানে করে প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। বিষয়টি এটি প্রমাণ করে না যে, ইরান যুদ্ধ ব্যর্থ। তবে হুমকি এড়াতে তাঁর এভাবে বের হয়ে আসাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে– যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিজের সুরক্ষার জন্য এ রকম পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে, সেখানে তাঁর প্রশাসন কীভাবে দাবি করছে ইরানের সব ধরনের সামরিক সক্ষমতার অবসান ঘটেছে?

ইরান এখনও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে তারা যে চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে নেই, তা এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে। ট্রাম্প গত সোমবার আবারও দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন খোলা আছে। অথচ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আগের স্থিতাবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস ধরে চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সুবিধা করতে পারছে না। এসব ডামাডোলে তাদের অস্ত্রের মজুতেও টান পড়েছে।

এদিকে, ট্রাম্পের খাবারের ট্রাক ও ছোট বিমানকাণ্ডের পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মী, গোয়েন্দা বাহিনীর এজেন্ট, সাংবাদিক ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিয়েও। কারণ, তারাও ট্রাম্পের সঙ্গে একই বিমানে যাতায়াত করেন। সেদিন ট্রাম্প ভিন্ন পথে চলে যাওয়ার পর তারা আগের বিমানে করেই ফিরেছিলেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের গভর্নর ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য জেবি প্রিটজকার গত মঙ্গলবার মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প নিজেকে বাঁচাতে অন্যদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাঁর এই মন্তব্য রিপাবলিকান পার্টির ফলাফলে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে পুরো বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে আরেকটি ঘটনাকে। আর তা হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হয়তো বাকি জীবন ঝুঁকির মধ্যে কাটাতে হবে। এর আগেও দুটি প্রত্যক্ষ হত্যাচেষ্টার মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছেন তিনি। 

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের সময়ই ইরানিরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা সরাসরি প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন। ইরানের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ওপর এ রকম পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্যারেন গিবসন গত মঙ্গলবার বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি পুরোপুরি সম্ভব যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ওপর ইরানসমর্থিত কারও পক্ষ থেকে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তারা এই ধরনের উদ্দেশ্যের কথা ব্যক্ত করেছে এবং তাদের যে সক্ষমতা আছে, তা এরই মধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে।’

ট্রাম্প এর আগে গত জুলাইয়ে হুমকি দিয়েছিলেন, তাঁর ওপর হামলা হলে পাল্টা জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এক হাজারটি ক্ষেপণাস্ত্র পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় ইরানের দিকে তাক করা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সিএনএন বলছে, আদৌ ট্রাম্পের কিছু হলে, তাঁর রেখে যাওয়া আদেশের ভিত্তিতে কাজ হবে না। বরং সে ক্ষেত্রে নির্দেশনা দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। 

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনী এবার নিরাপদে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তুরস্ক থেকে বের করে আনতে পেরেছে। তবে ট্রাম্প যে দাবি করেন, তিনি বিশ্বকে নিরাপদ করেছেন, সেই বক্তব্য অনেকাংশেই যৌক্তিকতা হারিয়েছে।

তুরস্কের সন্দেহ

এদিকে তুরস্কের কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ভেস্তে দিতে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ওই সম্ভাব্য হামলার ঘটনা তৈরি করেছিল। তুরস্ক গত মাসে ন্যাটো সম্মেলনকে ঘিরে সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছিল। এমনকি ট্রাম্পের ওই হুমকির বিষয়টি সামনে আসার পর এয়ারফোর্স ওয়ানকে ঘিরে তারা বাড়তি নিরাপত্তা সদস্যও মোতায়েন করেছিল। 

আরও পড়ুন

×