এসএসসির ফল বিপর্যয় শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনার বহিঃপ্রকাশ: সাইফুল হক
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ২২:১৬
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বিপর্যয় কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার চরম বৈষম্য, অদূরদর্শিতা ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তিনি এই ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অবিলম্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় কমিশন গঠন এবং সংকট উত্তরণে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সাইফুল হক এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত বছরের ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ কম।
তাঁর দাবি, এর ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকবে। অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকার এই ঘটনা দেশের শিক্ষা খাতে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাইফুল হক আরও বলেন, এ বছর ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১২টিতে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৮৪ থেকে কমে ৬৬৯টিতে নেমে এসেছে। এতে দেশের গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংকট স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতা বলেন, দেশে বহুধাবিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ও রাষ্ট্রীয় অবহেলার কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় থেকে দুই দশকে শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে একের পর এক অদূরদর্শী পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। জ্ঞানচর্চা ও প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের পরিবর্তে পাসের হার বাড়ানো, জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা এবং অটোপাসের সংস্কৃতি শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাইফুল হক বলেন, প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং একাদশ শ্রেণিতে বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়। এর ফলে তাদের পরিবারও মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য এর প্রভাব আরও গভীর।
ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত একটি জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে শিক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে সংকট উত্তরণে দ্রুত একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।
একই সঙ্গে সরকার, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারপ্রধানের প্রতি কোনো কালক্ষেপণ না করে সর্বজনীন, বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান সাইফুল হক।