ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

সাংগঠনিক পুনর্গঠনে চট্টগ্রামকে ‘মডেল’ করতে চায় বিএনপি

সাংগঠনিক পুনর্গঠনে চট্টগ্রামকে ‘মডেল’ করতে চায় বিএনপি
×

 তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৮ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম থেকে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দলকে নতুন করে সাজানো হবে। চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক জেলা কমিটি করে এই ‘মডেল’ অনুযায়ী সারাদেশে দলকে শক্তিশালী করা হবে। 

গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর হোটেল র‍্যাডিসনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে এমন পরিকল্পনার কথা বলেন তারেক রহমান। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে– এ ধরনের কেউ যাতে নেতৃত্বে আসতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশনা দেন। শিক্ষিত-মার্জিত এবং দল ব্যবহার করে নিজ স্বার্থ হাসিল করবে না– এমন নেতাদের মূল্যায়নের কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৭০০ নেতা বৈঠকে অংশ নেন।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বিএনপি নেতারা। ২০২২ সালের শুরুর দিকে লন্ডনে থাকাকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপিকে ‘পুনর্গঠনের মডেল’ হিসেবে দাঁড় করাতে বিশেষ একটি রূপরেখা দেন তারেক রহমান। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তখন দায়িত্ব দেওয়া হয় দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানকে (বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী)। তখন বিষয়টি নিয়ে তোড়জোড় চলে। নগর বিএনপি নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন আহমেদ আযম খান। দল পুনর্গঠনে কয়েকটি উপকমিটি করা হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যক্রম চালানো হলেও এক পর্যায়ে এটি থমকে যায়। এখন সেই প্রক্রিয়া অনুসরণে আবারও বন্দরনগরীতে দলকে সাজানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএনপির সম্মেলন হবে। তাই তৃণমূল পর্যায়ে দলকে পুনর্গঠনে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দলের কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা হবে। তবে কোনোভাবেই সন্ত্রাসী ও অযোগ্য কাউকে নেতৃত্বে আনা যাবে না।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা অপরাধে জড়িত, যাদের কারণে দলের বদনাম হতে পারে– তাদের সাংগঠনিক কর্মসূচি থেকে দূরে রেখে দলকে এগিয়ে নিতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। তিনি সমকালকে বলেন, ‘চট্টগ্রামকে মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়ে, সেই রূপরেখা অনুযায়ী অন্যান্য জেলায়ও দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। লন্ডনে থাকাকালেই তিনি এই উদ্যোগ নেন। দলের সিনিয়র নেতা আহমেদ আযম খান এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। এবার তারেক রহমান মাঠ পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার কথা বলেছেন। আমরা তার আগের রূপরেখা অনুসরণ করে পুনর্গঠন কাজ শিগগির শুরু করব।’

দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নেতায় নেতায় বিভক্তি ও কোন্দলের কারণে চট্টগ্রামে তৃণমূল পর্যায়ে পুনর্গঠন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৭ জুলাই এরশাদউল্লাহকে আহ্বায়ক এবং নাজিমুর রহমানকে সদস্য সচিব করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দুই সদস্যের আংশিক কমিটি এবং পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর নগর বিএনপি মেয়াদোত্তীর্ণ থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো ভেঙে দিলেও নতুন করে গঠন করতে পারছে না। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি দল পুনর্গঠনে তৃণমূল পর্যায়ের সব কমিটি ভেঙে দিলেও দীর্ঘদিন ধরে এসব কমিটি নতুন করে গঠন করা হচ্ছে না।

চরম কোন্দলের জেরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় বিএনপির অবস্থা টালমাটাল। বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে একের পর এক লাশ পড়ছে রাউজানে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার পতনের পর থেকে রাউজানে ২৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। দফায় দফায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষে আহত হয়েছে সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ। সর্বশেষ গত ১৩ জুন রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামে দল পুনর্গঠনে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীদের অনেকে।

 

আরও পড়ুন

×