ঢাকায় ‘ব্রিজিং হরাইজনস’ প্রদর্শনী, শিল্পের সেতুবন্ধনে সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ
প্রদর্শনীটি উপভোগ করছেন দর্শকরা। ছবি: দ্রোহী তারা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:৫৪
শিল্পের ভাষা যে ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে মানুষে মানুষে সংযোগ তৈরি করতে পারে, তারই এক নান্দনিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে ‘ব্রিজিং হরাইজনস: অ্যা ভিজ্যুয়াল ডায়ালগ অব নেচার, হেরিটেজ অ্যান্ড ইনোভেশন’ শীর্ষক শিল্প প্রদর্শনী। সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে ঢাকাস্থ সিঙ্গাপুর হাইকমিশন ও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার যৌথ উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কার্টুনিস্ট অধ্যাপক রফিকুন নবী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শঝো।
প্রদর্শনীটির কিউরেটর ঢাবির চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক হারুন অর রশীদ টুটুল। তাঁর পরিকল্পনায় প্রদর্শনীতে যে শিল্পকর্মগুলো স্থান পেয়েছে, তা একদিকে প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে তুলে ধরেছে, অন্যদিকে আধুনিক উদ্ভাবন ও পরিবর্তিত সমাজবাস্তবতার প্রতিফলনও ঘটিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিচেল লি দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে শিল্পের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিল্প কূটনীতির পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এবং মানুষের মধ্যে এমন সম্পর্ক তৈরি করে, যা আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনে পরিণত হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই প্রদর্শনী দুই দেশের এমন এক অংশীদারিত্বের প্রতিফলন, যা শুধু অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; পারস্পরিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারেরও বহিঃপ্রকাশ।
প্রদর্শনীতে সিঙ্গাপুরের একটি বিশেষ শিল্পসংগ্রহের পাশাপাশি বাংলাদেশের ১৪ জন শিল্পীর শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত আহ্বানের মাধ্যমে নির্বাচিত ছয়জন তরুণ ও উদীয়মান বাংলাদেশি শিল্পীর কাজও স্থান পেয়েছে এ আয়োজনে। ফলে প্রতিষ্ঠিত শিল্পধারা ও নতুন প্রজন্মের শিল্পচর্চার মধ্যে একটি গতিশীল দৃশ্যভাষিক সংলাপ তৈরি হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, এই প্রদর্শনী শুধু শিল্পকর্ম প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও সুসংহত করার একটি সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে এটি সাংস্কৃতিক কূটনীতির গুরুত্ব এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ১৯ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে।
- বিষয় :
- শিল্প প্রদর্শনী