ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

মঙ্গলবার থেকে ‘অটো মামলা’, নজর রাখবে ১৪২৭ এআই ক্যামেরা

মঙ্গলবার থেকে ‘অটো মামলা’, নজর রাখবে ১৪২৭ এআই ক্যামেরা
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:২৮ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ২০:২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা জোরদার করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পুলিশ। এক হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো মহাসড়ক নজরে রাখা হবে। মঙ্গলবার থেকে এ মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে রাজধানীর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর মামলার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে পুলিশ। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় এটির উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
  
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে যানবাহন চালনাসহ অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যবস্থার আওতায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এআই ক্যামেরার মাধ্যমে আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্তপূর্বক স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএস’এর মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে।
 
মামলার তথ্য পাওয়ার পর আইন অমান্যকারী যানবাহনের মালিক নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। 

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাসড়কে সংঘঠিত বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং বিধি অনুযায়ী জরিমানা আদায়ের কার্যক্রম আরও দ্রুত, স্বচ্ছ, নির্ভুল ও কার্যকর করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থা মহাসড়কে ট্রাফিক আইন পালনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। হাইওয়ে পুলিশ এই বিষয়ে যাত্রী সাধারণ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ সব অংশীজনের আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে প্রত্যাশা করে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ সমকালকে বলেন, এই প্রথম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ জগতে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। আগে মানুষ যে হয়রানিমূলক মামলার শিকারের অভিযোগ করত, এখন আর সেই অভিযোগ থাকবে না। কারণ, প্রযুক্তির মাধ্যমে আইন অমান্য করা গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হবে।’

তিনি বলেন, ‘অটো ফাইন সিস্টেম’র কারণে গাড়ির ওভারস্পিড ও উল্টোপথে আসা কমবে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

গত ১ আগস্ট কুমিল্লা সার্কিট হাউজে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ। সেখানে তিনি বলেন, চলতি মাসেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন রোধে বসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা।
 
ফারুক আহমেদ বলেন, এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে, চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে এবং আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই দিন তিনি কুমিল্লা অঞ্চলের নিমসার বাজার এলাকায় সরেজমিনে যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরে কুমিল্লা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিমসার বাজারের যানজট নিরসনে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে গত ৭মে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ৩০ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০টি মামলা করা হয়েছে। রাজধানীতে আগে ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা ছিল। বর্তমানে মোট ১৯টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মহানগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে।

গতিসীমা লঙ্ঘন, বিপদজনকভাবে লেন পরিবর্তন, চালক এবং আরোহী হেলমেট বিহীন মোটরসাইকেল চালনা, অবৈধ পার্কিং এবং যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয় নিখুঁতভাবে শনাক্ত করছে। এরপর ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা রুজু হয়।

আরও পড়ুন

×