ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

কাপ্তাইয়ের সুইডেন পলিটেকনিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১১

কাপ্তাইয়ের সুইডেন পলিটেকনিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১১
×

আহত দুই শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৪৫

কাপ্তাইয়ের বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে (বিএসপিআই) আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। গত শুক্রবার রাত প্রায় ১১টায় ইনস্টিটিউট চত্বরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রীতি কর্মসূচির আয়োজন করে ‘কক্সবাজার ফোরাম’। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলার শিক্ষার্থী ও অটোমোবাইল বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র মো. জাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘বিতর্কিত’ পোস্ট দেয়।

পরবর্তীতে ওই পোস্টটি কক্সবাজার জেলার শিক্ষার্থীদের নজরে এলে তারা বিষয়টি শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন সাঈদকে জানান। ওই শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে পোস্টের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করায় অন্য শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। এ ঘটনার জেরে শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ওটিজি-সিটিজি ফোরাম এবং কক্সবাজার ফোরামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।

আহতরা হলো—ওটিজি-সিটিজি ফোরামের শিক্ষার্থী তারেক (২২), মুনতাকিম (২২), মেহেরাব হোসেন (২২), আদিত্য (২১), জাহিদ (২১), হাসান (২১) এবং কক্সবাজার ফোরামের শিক্ষার্থী তৌসিফ (১৯), আবিদ (২০) ও ইমরান (২০)। এ ছাড়া, চট্টগ্রাম মেডিকেলে গুরুতর আহত দুজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, খবর পেয়ে তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়। এ ছাড়া কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ৫৭তম থেকে ৬০তম—এই চারটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত রয়েছে। মূলত অঞ্চলভিত্তিক বিরোধ, পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

×