ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট, অর্ধেকে উৎপাদন 

সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট, অর্ধেকে উৎপাদন 
×

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৫৭

ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের তীব্র সংকট এবং স্বল্পচাপের কারণে পোশাক কারখানা, ডাইং ইউনিট ও চামড়াশিল্পের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক কারখানায় বয়লার চালানো বা ফিনিশিং কাজ ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো রপ্তানি আদেশ সম্পন্ন করা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পাঞ্চলের বহু কারখানায় উৎপাদন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। 

সাভারের রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর এবং আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানা ঘুরে মঙ্গলবার উৎপাদন কার্যক্রমে এর প্রভাব দেখা গেছে। কয়েকটি কারখানায় গ্যাসের চাপ বাড়া কিংবা বিদ্যুৎ ফেরার অপেক্ষায় উৎপাদন ইউনিট বন্ধ ছিল। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কারখানা ডিজেল বা এলপিজি ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছে। তবে এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। 

শিল্প সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের প্রায় ১ হাজারের বেশি কারখানায় এ সংকটে রয়েছে। পোশাক, বস্ত্র, স্পিনিং, ডাইং, ইস্পাত, সিরামিক ও কাগজ শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যেখানে ১০ থেকে ১৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে মিলছে মাত্র ১ থেকে ৩ পিএসআই। এতে বয়লার, জেনারেটরসহ উৎপাদন যন্ত্রপাতি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। এরপরও অধিকাংশ শিল্পকারখানা এখনো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছে না। সাভারের পাকিজা ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে গ্যাসের কম চাপের কারণে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন থাকলেও বাস্তবে চাপ ২ পিএসআই থেকে অনেক সময় এক পিএসআইয়ের নিচে নেমে যায়। একই অবস্থা সাভারের উলাইল এলাকার আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানাগুলোতেও। 

সাভারে আল-মুসলিম পোশাক কারখানার প্রশাসিনক কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ সমকালকে জানান, কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য কমপক্ষে ২০ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে চাপ ৬ পিএসআই থেকে অনেক সময় ৪ পিএসআইয়ের নিচে নেমে যায়।

তিনি আরও বলেন, প্রায় তিন মাস আগেও তাদের কারখানায় প্রতিদিন এক লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ গজ কাপড় উৎপাদিত হতো। এখন গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ কমে যাওয়ায় দৈনিক উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় এক লাখ থেকে এক লাখ ১০ হাজার গজে। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন প্রায় অর্ধেক কমেছে।

সাভারের চামড়াশিল্প নগরের কারখানাগুলোতেও গ্যাস-সংকটের প্রভাব পড়েছে। শিল্পনগরীর ১৪৫টি কারখানার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই বর্তমানে গ্যাস পাচ্ছে না। আর বাকি কারখানাগুলো চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, সপ্তাহখানেক আগে শিল্পনগরীর কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ ছিল। এক সপ্তাহ ধরে প্রায় অর্ধেক কারখানা চাহিদার অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছে। এতে কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গ্যাসের সংকটের প্রভাব শুধু কারখানার উৎপাদন ও ব্যয়ের ওপরই পড়ছে না, শ্রমিকদের কাজের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকনেতারা। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করা না গেলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিতাসের সাভার জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ হাসান আল মামুন বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে শিল্পকারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×