মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সিন্ডিকেট নয়, ওয়ান স্টপ চান ব্যবসায়ীরা
ছবি- সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৩০ | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৩৪
নির্দিষ্ট সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির 'সিন্ডিকেট' নয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানিয়েছে জনশক্তি রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, এই ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে সব এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিতে হবে। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানান তারা। তাঁদের ভাষ্য, ২০২২ সালের মত এবারও ২৫ এজেন্সির সিন্ডিকেটকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কাজ হতে পারে। এতে কর্মীরা আবারও আগের মত প্রতারিত হবেন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ রাখার পক্ষে নই। আমরা চাই শ্রমবাজার দ্রুত খুলুক। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে নয়, সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে খুলতে হবে।
২০১৫ সালে মালয়েশিয়ার বাছাই করা ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠানোর কাজ পায়। যারা সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি ছিল। ২০২২ সালে ২৫ এজেন্সি কাজ পায়। এর পাঁচটি ছিল তৎকালীন মন্ত্রী এমপিদের প্রতিষ্ঠান। বাকিগুলোও ছিল আওয়ামী লীগ নেতা বা তাঁদের ঘনিষ্ঠদের এজেন্সি। কর্মী প্রতি ৭৯ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও এজেন্সিগুলো গড়ে পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার টাকা করে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পর ২০২৪ সালের ৩১ মে দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। যা এখনও খোলেনি। গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দেন। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য আট শর্ত পূরণ করা ৪২৩টি এজেন্সি তালিকা দেশটিকে দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে গুঞ্জন রয়েছে, বিএনপি নেতাদের প্রতিষ্ঠান এবার কাজ পেতে যাচ্ছে।
ফখরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, আবারো মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একচেটিয়া নিয়োগ-ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য পাঁচ মিলিয়ন রিঙ্গিত বা প্রায় ১৭ কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে। এমনকি কর্মীপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিত সিন্ডিকেট ফি আদায়ের পরিকল্পনাও চলছে।’
দাবি তুলে ধরে ফখরুল ইসলাম বলেছেন, মালয়েশিয়া অন্য ১৪ দেশ থেকে যেভাবে কর্মী নিয়োগ করে বাংলাদেশের জন্যও একই নিয়ম প্রযোজ্য হতে হবে। ২৫, ৫০ বা ১০০টি এজেন্সির হাতে পুরো শ্রমবাজার কুক্ষিগত করা যাবে না। আর মালয়েশিয়া সরকার যদি সীমিত সংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগে অনড় থাকে, তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করতে হবে। যাতে সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পায়। প্রয়োজনে বোয়েসেল তদারকি করবে।
এই পদ্ধতির বিষয়ে ব্যবসায়ী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়া থেকে কর্মীর চাহিদাপত্র (ডিমান্ড) আনবে। এরপর বোয়েসেল সেই ডিমান্ড লেটার (চাহিদাপত্র) অনুযায়ী কর্মী পাঠাবে। প্রয়োজনে বোয়েসেলকে প্রসেসিং ফি দিবে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিগুলো।
বায়রার সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেট হতে দিলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব এম এ ছালাম, মফিজ উদ্দিন, আকবর হোসেন মঞ্জু, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ আলী ও হক জহিরুল।
- বিষয় :
- মালয়েশিয়া
- কর্মী নিয়োগ