ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোলাপি বাসের খোঁজে রোদে ঘর্মাক্ত নারী

গোলাপি বাসের খোঁজে রোদে ঘর্মাক্ত নারী
×

রাজধানীতে চলাচল শুরু করেছে পিংক বাস। নারীর জন্য বিশেষ এই পরিষেবা চালু হয়েছে গতকাল বুধবার থেকে। ছবিটি মতিঝিল থেকে তোলা সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৬ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১০:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সকাল থেকে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক নারী যাত্রীর চোখ খুঁজছিল গোলাপি রঙের বাস। সংবাদমাধ্যম থেকে সামাজিক মাধ্যমে কয়েক দিন ধরে আলোচিত নারীর জন্য বিশেষ এই পরিষেবা উদ্বোধনের পর চালু হলো গতকাল বুধবার থেকেই। ছবিতে বাসের গোলাপি রং দেখে এবং খবরে রুটের বিবরণ জেনে অনেকেই আগ্রহ নিয়ে বের হয়েছিলেন। কিন্তু অনেক নারীর সেই অপেক্ষা শুধু ঘেমে-নেয়েই সারা হলো।    

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর নতুন বাজার, মধ্য বাড্ডা, রামপুরা, আবুল হোটেল, মালিবাগ, খিলগাঁও, বাসাবো, কমলাপুর, গুলিস্তান, পল্টন ও মতিঝিলের বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এমন অভিজ্ঞতার কথাই জানা গেল।

নতুন বাজার থেকে মতিঝিলগামী রুটের কয়েকটি স্টপেজে গিয়ে দেখা যায়, নারী যাত্রী অনেকে বাসের খোঁজ করছেন। রামপুরা ও আবুল হোটেল এলাকায় অপেক্ষমাণ কয়েকজন নারী জানালেন, তারা আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। বাসস্ট্যান্ডের আশপাশের দোকানদার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও গোলাপি বাস নিয়ে কৌতূহল দেখা গেছে। বাসাবোর চায়ের দোকানদার খায়রুল বাশার বলেন, ‘গতকাল থেকে নারীদের জন্য আলাদা বাসের কথা শুনছি। আমরাও নারী চালক ও গোলাপি বাস দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বাস চোখে পড়েনি।’

তবে বিভিন্ন এলাকার ট্রাফিক সার্জেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খিলগাঁও এলাকায় বেলা ১১টার দিকে, গুলিস্তানে দুপুর ১টার দিকে এবং বঙ্গভবনের সামনের সড়কে বিকেল ৩টার দিকে গোলাপি বাস চলাচল করতে দেখেছেন তারা; যদিও যাত্রী ওঠানো বা নামানোর মুহূর্ত দৃষ্টিগোচর হয়নি।

পল্লবী থেকে দিনে একবারই গোলাপি বাস
গতকাল বেলা ১১টা ১০ মিনিটে সরেজমিন মিরপুর-১২ নম্বরে গিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বোঝা যাচ্ছিল না– গোলাপি বাস এখান দিয়ে যাবে, নাকি মতিঝিল থেকে ফিরবে। মিরপুর-১২ নম্বরে আলাদা করে নেই কোনো গোলাপি যাত্রী ছাউনি। তবে সিরামিক মোড়ের কাছে আছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) একটি বাস ডিপো ও টার্মিনাল। জানা গেল, এই ডিপো থেকে গতকাল একটি বাসই ছেড়ে গেছে। আরেকজন চালক যুক্ত হলে দুটো বাস ছাড়বে। 

গোলাপি বাসের চালক রিমা বুধবারের যাত্রা নিয়ে বেশ খুশি বলে জানালেন সমকালকে। তিনি বলেন, ‘বাস সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ডিপো থেকে বের হয়ে সোয়া ৮টার দিকে ছেড়ে যায়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমরা মতিঝিলে যাত্রী নামাতে পারি। মতিঝিল থেকে বাস ছেড়েছে ৪টার দিকে।’

বগুড়ায় যাত্রী কম, উৎসুক মানুষ বেশি
বগুড়া ব্যুরো জানায়, নারী যাত্রীদের জন্য বগুড়ায় চালু করা পিংক বাস সেবায় উদ্বোধনের দ্বিতীয় দিন বুধবারে আশানুরূপ যাত্রী মেলেনি। তবে নতুন এ বাস দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিআরটিসির তথ্যমতে, এদিন দুটি বাস থেকে ভাড়া আদায় হয়েছে মাত্র ২৫৫ টাকা। উদ্বোধনের দিন আদায় হয়েছিল ৩১৫ টাকা।

একটি বাস শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বগুড়া শহরের বনানী হয়ে তিনমাথা পর্যন্ত এবং অন্যটি মাটিডালি থেকে মোকামতলা পর্যন্ত চলাচল করছে। দুটি বাসই সকাল সাড়ে ৭টায় যাত্রা শুরু করে। মাটিডালি-মোকামতলা রুটে দিনে দুই ট্রিপে মোট যাত্রী ছিল ১৭ জন। 

শেরপুর রুটের যাত্রী জাহানারা খাতুন বলেন, ‘বাসটি শহরের ভেতরে না যাওয়ায় কর্মস্থলে পৌঁছাতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ফলে এ সেবা ব্যবহার করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।’

বিআরটিসির প্রশাসনিক ইনচার্জ ও পিংক বাস সেবার মনিটরিং কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের ভেতর দিয়ে বাস চলাচলের ব্যবস্থা করা গেলে যাত্রী সংখ্যা বাড়বে। এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের অনুমোদন নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।’

চট্টগ্রামে গোলাপি বাসে কমেছে দুর্ভোগ, বেড়েছে স্বস্তি
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, আপাতত দুটি বাস নিয়ে চট্টগ্রামে এই পরিষেবা চালু হয়েছে। কালুরঘাট থেকে ফ্রি পোর্ট হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করছে বাস দুটি। পথে ১২টি নির্ধারিত পয়েন্টে ওঠানামা করার সুযোগ পাচ্ছেন নারী যাত্রীরা। এ বাসের যাত্রী হামিদা বেগম বললেন, ‘বুধবার পিংক বাসে করে কর্মস্থলে এসেছি। আগের তুলনায় সময় কম লেগেছে অর্ধেক। আর দুর্ভোগ কমেছে শতভাগ। এই সার্ভিসটি যেন চালু থাকে। মাঝপথে যেন বন্ধ না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে সরকারকে।’    

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘চট্টগ্রামের কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে পিংক বাস থামছে কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, লালখান বাজার, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারেক বিল্ডিং, ফ্রি পোর্ট, কাঠগড় ও পতেঙ্গায়।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে ৫০টি বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা ডিপো, বাস ও কাউন্টারের দৃশ্যমান স্থানে সাঁটানোর পাশাপাশি এ সার্ভিসে ই-টিকিট চালু করা হয়েছে। আছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাও।’ পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বাসে এসব সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×