নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা
রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ঋণ নেওয়া হবে
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৪৮
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। তবে এটি কবে থেকে এবং কত ধাপে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর অর্থের সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ঋণও নেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পে-স্কেল বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।
তিতুমীর বলেন, পে-স্কেল নিয়ে সাধারণত তিনটি পর্যায়ে কাজ হয়। প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন বা সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল পে কমিশন তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে প্রথম দুটির বিষয় সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের পে-স্কেলের জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির প্রথম সভাও হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি তাদের প্রতিবেদন দেবে। এর মাধ্যমে পে-স্কেল প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হবে।
এরপর তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করবে। কোন কোন বিষয় কবে থেকে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকেই হবে বলে জানান তিনি।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ঋণও নেওয়া হবে। তবে ঋণ নেওয়াকে তিনি কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না।
তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলে কি না এটাই মূল প্রশ্ন নয়। মূল বিষয় হচ্ছে বাজেট ঘাটতি কত, মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় করের পরিমাণ কত এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় কত ব্যয় করা হচ্ছে।
তিতুমীর বলেন, ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে বিনিয়োগের ওপর রিটার্ন, ভবিষ্যতের পরিবেশগত প্রভাব, অর্থের যথাযথ মূল্য এবং তাৎক্ষণিক গুণপ্রভাব। অর্থাৎ ঋণ নিয়ে যদি অর্থনীতিতে গুণপ্রভাব তৈরি করা যায়, তাহলে সেই ঋণ নেওয়া নেতিবাচক নয়।
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, আগের সরকার অযৌক্তিকভাবে উন্নয়নের বয়ান তৈরি করতে গিয়ে ঋণের বোঝা বাড়িয়েছে। এখন ঋণের সুদ পরিশোধ অন্যতম সরকারি ব্যয়ের বড় খাত। এ অবস্থায় ঋণ নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, এছাড়াতো বিকল্প নেই। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভার উপর নির্ভর করছে বলেও জনান উপদেষ্টা।
পে-স্কেলের সুবিধা সীমিতসংখ্যক সরকারি চাকরিজীবী পাবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বেতন বৈষম্য ও সরকারি-বেসরকারি খাতের বেতনের তুলনা নিয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতের ব্যয় বা বেতন তুলনার ক্ষেত্রে একই ধরনের বিষয়কে একই ধরনের বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বেতন এবং বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তিতুমীর বলেন, ‘যার কর্ম অনুযায়ী তার ব্যবস্থা’ এই নীতিই বিবেচনায় রাখতে হবে।
বেতন বাড়ালে দুর্নীতি কমার নিশ্চয়তা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার এমন দাবি করছে না। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কার্যকর ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নেওয়া।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সরকার পুঞ্জীভূত সংকটের উত্তরাধিকার পেয়েছে। এসব সংকট থেকে বের হতে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতার আলোকে নতুন অর্থনৈতিক মডেল প্রয়োজন বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, সরকার মানুষের জীবনে স্বস্তি আনা, বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে এগোচ্ছে।
- বিষয় :
- বেতন কাঠামো
- অর্থ উপদেষ্টা
- পে স্কেল