গুমের সব অভিযোগ সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৫ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
গুমের প্রতিটি অভিযোগই সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে ‘মায়ের ডাক’-এর পক্ষ থেকে দেওয়া গুমের অভিযোগগুলো যেন রাজনৈতিক বিবেচনায় তদন্ত বা বিচার না করা হয়, সেই অনুরোধ জানান সংগঠনটির সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।
সংরক্ষিত আসনের এই এমপি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কারা গুম করেছিল, সেটার তদন্ত ও বিচার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ট্রাইব্যুনালে প্রাধান্য পেয়েছিল। তিনি বলেন, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের সময়ে ‘মায়ের ডাক’-এর দেওয়া গুমের অভিযোগগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরের সময়ে যেন এমনটি না হয়, সে অনুরোধ জানাই। এদিন গুমের শিকার প্রায় ৬০টি পরিবারের সদস্য ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তুলি।
তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা ছিল, তাদের দেওয়া গুমের অভিযোগ তদন্ত ও বিচার ট্রাইব্যুনালে গতি পাবে। ‘মায়ের ডাক’ থেকে প্রায় ১৫০টির মতো গুমের অভিযোগ তারা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দিয়েছেন। এক যুগের বেশি সময়ের তথ্য-উপাত্ত দিয়েছেন তারা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের এক বছর তিন মাস তারা কোনো তদন্ত দেখেননি।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, গুমের মামলায় পারদর্শী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) বর্তমানে এসব মামলা তদন্তে কাজ করছেন। তিনি বলেন, গুমের শিকার প্রায় ২৫০ জনের পরিবারের অভিযোগ এসেছে। এরই মধ্যে এসবের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ২৫০ জনেরই এখনও সন্ধান মেলেনি।
গুমের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাজের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, যেসব জায়গা থেকে এসব মানুষকে অপহরণ করা হয়েছিল, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটা পরিবার ধরে ধরে তদন্ত চলছে। এজন্য কিছুটা সময় লাগছে। নিখুঁতভাবে তদন্ত করার কারণে প্রতিবেদন পেতে বেশি সময় লাগছে।
- বিষয় :
- গুমের মামলা