সাক্ষাৎকারে হাসান মাহমুদ
জীবনের মোড় ঘোরানো সফর
ছবি- এএফপি
সেকান্দার আলী, ম্যাকাই থেকে
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫৮
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়কে ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য হিসেবে দেখছেন পেসার হাসান মাহমুদ। ডারউইন টেস্ট জয়কে দেশের ক্রিকেট সাফল্যকে সেরা মনে করেন। এই সাফল্য বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে সম্মানিত করবে বলে মনে করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ শেষে সমকালের সঙ্গে মন খুলে কথা বলেছেন হাসান মাহমুদ। ম্যাকাই থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সেকান্দার আলী
সমকাল: ডারউইন ম্যাচের রোমাঞ্চ নিয়ে জানতে চাই, ছয় উইকেট পেয়েছিলেন প্রথম ইনিংসে।
হাসান মাহমুদ: অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে বলতে গেলে আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সফর ছিল। আমার জীবনের সেরা সফর। ফাস্ট বোলারদের জীবনে যে একটা একটা মোড় আসে, গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে– এটা একটা জায়গা। আমার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অস্ট্রেলিয়া সফর।
সমকাল: ভেবেছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় এভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন?
হাসান মাহমুদ: আমরা যে এভাবে প্রভাব বিস্তার করে খেলব অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, সেটা অনুমেয় ছিল। কারণ আমরা এ রকম পরিকল্পনা করে এসেছিলাম যে আমরা প্রভাব বিস্তার করে খেলব। আমাদের মাইন্ডসেটটা এ রকম ছিল। আর আমরা আসার পর থেকে প্র্যাকটিসে নিবেদন, একাগ্রতা সবার একই রকম ছিল। তাই আমরা প্রথম ম্যাচে সফল হয়েছি।
সমকাল: ডারউইনে অত ভালো ক্রিকেট খেলার পর সিরিজ জেতার সুযোগ ছিল কি?
হাসান মাহমুদ: আমরা সিরিজে ভালো করেছি। প্রথম ম্যাচ জিতছি, দ্বিতীয় ম্যাচের প্রথম ইনিংসে কিছু রান বেশি করতে পারলে জিনিসটা অন্যরকম হতে পারত। এখান থেকে আমরা দুই-শূন্যে সিরিজটা জিততে পারতাম।
সমকাল: এখানে বোলিং করে কোন জিনিসটা ভালো লেগেছে?
হাসান মাহমুদ: বোলিং উইকেট হলে পেসারদের ভালো লাগা স্বাভাবিক। আমরা খুব খুশি ছিলাম। তবে চ্যালেঞ্জ ছিল বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল করা। বিশেষ করে পেস বোলিং কন্ডিশনে। কারণ ওরা সারা বছরই এখানে খেলে, এখানেই থাকে বা এখানে অনুশীলন করে। সেদিক থেকে দেখলে আমরা ভালো করেছি। সুতরাং ওদের মাঠে ওদের বিপক্ষে ভালো করা আমাদের জন্য অনেক কিছু।
সমকাল: দ্বিতীয় টেস্টে বোলিংয়ে আরেকটু বেটার হতে পারত কিনা?
হাসান মাহমুদ: আমার কাছে মনে হয়েছে যে স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রান ছিল না। এ ছাড়া নার্ভাস ছিলাম যদি রান লিক করে। তখন মাথায় অনেক কিছু চলছিল। এই কারণে একটু সমস্যা বোধ করছিলাম। আমরা যদি প্রথম ইনিংসে ২০০ করতাম, তাহলে ভিন্ন কিছু হতে পারত। আমি মনে করি, আমরা বোলিং খারাপ করিনি। শরিফুল, তাসকিন ভাই, আমি যারা খেলছি, চেষ্টা করেছি সেরাটা দিতে। হয়তো আমি উইকেট পাইনি, কিন্তু শরিফুল এক দিক থেকে সাপোর্ট দিয়েছে। মানে খুবই দারুণ বোলিং করছে, তাসকিন ভাই সাপোর্ট দিছেন। ওদেরকে কঠিন সময় দিয়েছি।
সমকাল: খালেদ মাহমুদ সুজন আপনার প্রশংসা করেছেন।
হাসান মাহমুদ: এই প্রশংসাগুলো আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। আমি যে ভালো বোলিং করেছি, সবাই যে প্রশংসা করেছে, এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। এ রকম বড় ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া অনেক কিছু।
সমকাল: সাকিব আল হাসান বলেছেন যে টেস্টে একজন বোলার বেছে নিতে হলে হাসান মাহমুদকে নিবেন। এ রকম একজন মানুষ যখন এ রকম কথা বলে, তখন কেমন অনুভূতি হয়?
হাসান মাহমুদ: এই অনুভূতি অনেক কিছু। কারণ এ রকম একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে যদি এমন মন্তব্য পাওয়া যায়, তা অনেক কিছু। যিনি বিশ্ব ক্রিকেটে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তিনি বিশ্বের এক নম্বর অল রাউন্ডার ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে এ রকম কমপ্লিমেন্ট পাওয়া আমার কাছে খুবই গৌরবের। আর আমিও চাই যারা কমপ্লিমেন্ট দিচ্ছিলেন বা যারা আমাকে নিয়ে চিন্তা করছেন, আমি যেন সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।
সমকাল: কাউন্টি ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা টেস্টে কতটা সাহায্য করেছে। এই লিগে নিয়মিত খেলার পরিকল্পনা আছে কি?
হাসান মাহমুদ: কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার ইচ্ছা আমার আছে। সুযোগ পেলে নিয়মিত খেলতে চাই। সমস্যা হলো আমাদের সিজনের সঙ্গে তাদের সিজনে ক্ল্যাশ করে। চেষ্টা করব এই লিগে নিয়মিত খেলতে। কারণ কাউন্টি ক্রিকেটে খেলে খেলোয়াড়রা স্কিল ও মনস্তাত্ত্বিক স্কিলে উন্নতি হয়। কাউন্টি ক্রিকেট আমাকে ভালো খেলতে সাহায্য করেছে।
সমকাল: পেস বোলিংয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইতিবাচক কিনা?
হাসান মাহমুদ: হ্যাঁ, স্বাস্থ্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। দলের সেবা করার চেষ্টা করলে লড়াইটা ভালো হয়। যারা দলে আছে, ওরাও চিন্তা করে আমরা কীভাবে ভালো করতে পারি। সবাই মিলে দলের জন্য বোলিং করলে ভালো কিছু হবেই।
সমকাল: আপনি এই সময়ে কী কী নিয়ে কাজ করেছেন, যা আপনাকে ফিরে আসতে, সাহায্য করেছে?
হাসান মাহমুদ: অস্ট্রেলিয়া আসার পরে আমরা বোলাররা অ্যাকুরেসি নিয়ে কাজ করছি। আমরা নতুন বলে বোলিং করছি বেশি। সুইং ও নিখুঁত ডেলিভারি নিয়ে প্র্যাকটিস করছি। বাঁহাতি, ডানহাতি যাদের বিপক্ষে যেভাবে বল করতে হতো, সেভাবে পরিকল্পনা করেছি। যেটা পরে ম্যাচে প্রয়োগ করতে পারায় সফল হয়েছি। ডারউইনে ভালো করে ম্যাচ জিতেছি। ম্যাকাইয়ে জিততে না পারলেও ওদের কঠিন সময় দিয়েছি। মানে সিরিজে বোলিং ইউনিট ভালো করেছে। প্রতিটি সেশন জেতার চেষ্টা করেছি। ব্যাটিংটা একটু ভালো হলে, সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেত।
সমকাল: স্টার্ক বা কামিন্সের কাছে থেকে কোনো পরামর্শ নিয়েছেন?
হাসান মাহমুদ: ম্যাচের পরে শরিফুল ও তাসকিন ভাই কথা বলেছিলেন হ্যাজলউড, স্টার্কের সঙ্গে। আমি শরিফুল ও তাসকিন ভাইয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম কীভাবে তারা সফল হন। তারা কী কী বলেছেন ও নির্দেশনা দিয়েছেন। যেমন– মাইন্ডসেট কেমন হবে, কীভাবে প্র্যাকটিস করে, ওয়ার্ক লোড, খাদ্য অভ্যাসের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন কিনা। তারা সবকিছু নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেগুলো আমাদের ক্যারিয়ার উন্নত করতে সাহায্য করবে।
- বিষয় :
- হাসান মাহমুদ
- বাংলাদেশ ক্রিকেট