ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

গরমে যেসব ওষুধে বাড়তে পারে অসুস্থতার ঝুঁকি

গরমে যেসব ওষুধে বাড়তে পারে অসুস্থতার ঝুঁকি
×

ছবি: বিবিসি/ সেরেনিটি স্ট্রুল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:১১

গরমের সময় শরীরকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখতে ঘাম হওয়া ও পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছু ওষুধ শরীরের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিষণ্নতা, এডিএইচডি, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধের কারণে গরমে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ঘাম বা শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যের কিছু ওষুধ

বিষণ্নতা ও উদ্বেগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ঘামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এসএসআরআই ও এসএনআরআই ধরনের ওষুধে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। এতে গরমের সময় শরীর থেকে বেশি পানি বেরিয়ে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টসহ কিছু ওষুধ আবার ঘাম কমিয়ে দিতে পারে। এতে শরীর থেকে তাপ বের হতে বাধাগ্রস্ত হয়ে অতিরিক্ত গরম লাগতে পারে।

এডিএইচডির ওষুধেও সতর্কতা

এডিএইচডির চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু উদ্দীপক ওষুধ শরীরে তাপ উৎপাদন বাড়াতে পারে এবং রক্তনালি সংকুচিত করতে পারে। ফলে শরীরের স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা বা শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে এ ধরনের ওষুধ সেবনকারীদের বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ

উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডাইইউরেটিকস শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করে দেয়। ফলে গরমের সময় বেশি ঘাম হলে পানিশূন্যতা ও শরীরে লবণের ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ছাড়া এসিই ইনহিবিটর ও এআরবি ধরনের কিছু ওষুধও গরমের সময় শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পানিশূন্যতা বেশি হলে কিডনির ওপরও চাপ পড়তে পারে।

হৃদরোগের কিছু ওষুধ

হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিটা-ব্লকার জাতীয় ওষুধ ত্বকের রক্তপ্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে শরীরের অতিরিক্ত তাপ বাইরে বের করে দেওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একসঙ্গে একাধিক ধরনের ওষুধ সেবন করলে গরমের সময় এসব প্রভাব আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা ও গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

অ্যালার্জির কিছু ওষুধেও প্রভাব পড়তে পারে

কিছু অ্যান্টি-কোলিনার্জিক ওষুধ অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট, পারকিনসন রোগসহ বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এসব ওষুধ ঘাম ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে সমস্যা হতে পারে।

গরমে কীভাবে সতর্ক থাকবেন

কোনো ওষুধ সেবন করলে গরমের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা, দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে না থাকা এবং অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। সম্ভব হলে দিনের তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে বাইরে বের হওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত জায়গায় বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ বা অচেতন হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

গরমে কোনো ওষুধের কারণে শারীরিক অস্বস্তি হচ্ছে মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের মাত্রা কমানো বা বন্ধ করা উচিত নয়। বিশেষ করে বিষণ্নতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা এডিএইচডির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে মূল রোগের উপসর্গ ফিরে আসতে বা বেড়ে যেতে পারে। গরমের সময়ে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলে ওষুধটির সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বাড়তি সতর্কতার বিষয়গুলো জেনে নেওয়া যেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন

×