কেরানীগঞ্জে অটোরিকশাচালক জুয়েল হত্যা, তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ২১:১৫
পাঁচ বছর আগে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অটোরিকশাচালক জুয়েলকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ের দায়ে তাদের পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ছিনতাই করা অটোরিকশা জেনেও কেনার দায়ে এক গ্যারেজ মালিককে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আলী হোসেন, লুৎফর রহমান ও হাসান। আর তিন বছরের কারাদণ্ড পাওয়া গ্যারেজ মালিক হলেন আহমদুর রহমান। গতকাল সোমবার ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ছিনতাইয়ের দায়ে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আহমদুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে অর্থদণ্ডের ১৫ লাখ টাকা নিহত জুয়েলের অসহায় পরিবার ও এতিম সন্তানদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার আগে আলী হোসেন, লুৎফর রহমান ও হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে কারাগারে পাঠানো হয়। আহমদুর রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
যেভাবে হত্যা
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জুয়েল অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামিরা কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর বাজারে অবস্থান নেয়। আলী হোসেন ও লুৎফর রহমান যাত্রীবেশে জুয়েলের অটোরিকশা ভাড়া করেন। তারা জুয়েলকে নিয়ে ভাষানচর কাঠবাগানের দিকে রওনা হন।
সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা হাসান ও এনামুল তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা জুয়েলের হাত-পা ও মুখ চেপে ধরে ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে যায়। এ সময় কিশোর এনামুল অটোরিকশায় বসে ছিল। পরে আসামিরা জুয়েলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা এবং অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ধইঞ্চা ক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জুয়েলের বোন সাবিনা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০২২ সালের ২৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
- বিষয় :
- আদালত
- কেরানীগঞ্জ
- হত্যা
- মামলা
- মৃত্যুদণ্ড