ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৫:৫৮

দুর্বল পাঁচ শরিয়াভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের ৯ মাসের মাথায় রাষ্ট্রীয় মালিকানা ছেড়ে দিতে চায় সরকার। এজন্য বিদেশি বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কাতারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যান্য মুসলিম দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আলোচনায় আগ্রহী সরকার।

গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ছেড়ে দিতে চায়। এজন্য কাতারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনা সফল হলে কাতার ব্যাংকটির মালিকানায় যুক্ত হতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কাতারের পাশাপাশি অন্যান্য মুসলিম দেশও ব্যাংকটিতে বিনিয়োগে আগ্রহী হলে তাদের সঙ্গেও আলোচনা করবে সরকার। লক্ষ্য হলো ব্যাংকটির মালিকানায় বেসরকারি ও বিদেশি অংশীদার যুক্ত করা।

সরকার মালিকানা ছেড়ে দিলে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি থাকবে কি না— এ প্রশ্নের জবাবে তিতুমীর বলেন, যারা ব্যাংকের দায়িত্ব নেবেন, বিষয়টি তাদের ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে সরকার আগাম কীভাবে জানবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংক একীভূত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। একীভূত ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাংকটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মতিপত্র (এলওআই) দেয় এবং ৩০ নভেম্বর চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়। শুরু থেকেই ব্যাংকটি সরকারি মালিকানায় রাখার সিদ্ধান্ত ছিল।

ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে মূলধনে যুক্ত হওয়ার কথা। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাতারের সঙ্গে আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের কাঠামো, অংশীদারত্বের ধরন ও মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়গুলো আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নবগঠিত ব্যাংকটির মোট কর্মী ১৮ হাজার ৮১ জন। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৫ হাজার ৯৯৬, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ৪ হাজার ৩৯, এক্সিম ব্যাংকে ৩ হাজার ৪৮৭, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ২ হাজার ৪৮৬ এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে ২ হাজার ৭৩ জন কর্মী রয়েছেন। পাঁচ ব্যাংকের সমন্বিত নেটওয়ার্কে রয়েছে ৭৬১টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট ও ৯৭৫টি এটিএম বুথ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশই খেলাপি।

সরকারের ধারণা, বিদেশি ও বেসরকারি অংশীদার যুক্ত হলে ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা ও পরিচালন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। তাই কাতারসহ আগ্রহী মুসলিম দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×