আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা
সম্পদের মালিকানার অধিকার বিস্তৃত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে
গবেষণা সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৩৭ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সম্পদের মালিকানার অধিকারকে বিস্তৃত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ জন্য এমন এক মডেল নিতে হবে, যাতে করপোরেট খাতের মালিকানায় শ্রমিকদেরও অংশীদারিত্ব থাকে। সমাজের বৈষম্য অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশ্বও এমন এক সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা খুব একটা দেখা যায়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সৈয়দ হুমায়ুন কবীর স্মৃতি গবেষণা সম্মেলন ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন ও সাজেদা ফাউন্ডেশন যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
দিনব্যাপী আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘সম্পদের মালিকানার অধিকারকে আরও বিস্তৃত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এমন একটি মডেল গ্রহণ করতে পারেন, যেখানে করপোরেট খাতের মালিকানায় তাদের শ্রমিকদেরও অংশীদারত্ব থাকবে এবং সমাজের আরও বিস্তৃত অংশের মানুষ মালিকানার সুযোগ পাবে।’
সম্মেলনে ‘ন্যায্যতা, সক্ষমতা ও জীবনকুশলতা’ শিরোনামের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান। এ পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ জাভেদ চৌধুরী। সূচনা বক্তব্য দেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ফারুক সোবহান ও ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষণা উপদেষ্টা সাজেদা আমিন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক কৌশিক বসু।
অধ্যাপক কৌশিক বসু বলেন, ‘সমাজের মুষ্টিমেয় লোকের হাতে বিপুল সম্পদ। বৈষম্য এখন আকাশ ছুঁতে যাচ্ছে। বৈষম্য অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় পৌঁছেছে। আমাদের সামনে নীতিগত বিকল্প কী আছে, তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা দরকার।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ব এমন এক সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আমরা খুব কমই দেখেছি।’
দু-তিন সপ্তাহ ধরেই হঠাৎ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে কৌশিক বসু বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ শ্রমের মাধ্যমে আয় করে জীবিকা নির্বাহ করে। ফলে আমরা এমন একটি চাপ বা সংকটের লক্ষণ দেখছি, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।’
অনুষ্ঠানে ‘নেতৃত্বের উদ্দেশ্য: সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ শিরোনামের প্যানেল আলোচনায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হন সংবিধান প্রণেতা ও রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, সৈয়দ হুমায়ুন কবীর প্রতিষ্ঠিত ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান রেনাটা ৫১ শতাংশ শেয়ার সাজেদা ফাউন্ডেশনকে দান করেছে। এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। দান নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই পর্বে আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার মান দিন দিন নেমে যাচ্ছে। এটা বাড়ানো জরুরি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানুষের কল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে টিআইবি প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত হন সৈয়দ হুমায়ুন কবীর। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার যে লক্ষ্য ছিল তাঁর, তা আজও অর্জিত হয়নি।
এই পর্বে আলোচনায় অংশ নেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ফারুক সোবহান ও উপদেষ্টা শেহজাদ মুনিম। পর্বটি সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশনা ইমাম।
এরপর ‘আগামীর জন্য নির্মাণ: প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবন ও গুণগতমান’ শিরোনামের পর্বে অংশ নিয়ে মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আইসিডিডিআর,বির ইমেরিটাস বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী বলেন, টিকা তৈরি করা এক বিষয়, কিন্তু কীভাবে সেই টিকাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে এবং কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এ পর্বে আলোচনায় অংশ নেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী ও রেনাটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এস কায়সার কবির। তিনি সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের ছেলে। এ পর্ব সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ফারাবী হাফিজ।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী সাজেদা ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক সাজেদা হুমায়ুন কবির, দুই মেয়ে সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদা ফিজ্জা কবির এবং লিগ্যাল, সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইন্টেগ্রিটির জ্যেষ্ঠ পরিচালক সাজেদা ফারিসা কবির।
- বিষয় :
- সম্পদের হিসাব