ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশেই বাড়ছে হৃদরোগের চিকিৎসা, বিদেশমুখিতা কমেছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

দেশেই বাড়ছে হৃদরোগের চিকিৎসা, বিদেশমুখিতা কমেছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
×

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:১৭

বাংলাদেশে হৃদরোগের চিকিৎসায় সক্ষমতা বেড়েছে। এখন হৃদরোগের বিভিন্ন জটিল চিকিৎসার জন্য আগের মতো মানুষকে বিদেশে যেতে হয় না বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দেশে গড়ে উঠেছে একাধিক কার্ডিয়াক চিকিৎসা ও সার্জারি কেন্দ্র।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) আয়োজিত কার্ডিওভাসকুলার সার্জিক্যাল সম্মেলন-২০২৬ এ বক্তব্য দেওয়ার সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ২৫ বছর আগের তুলনায় দেশের হৃদরোগ চিকিৎসাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে এনজিওগ্রাম, পিসিআই ও সিএবিজির মতো চিকিৎসার জন্য অনেকে বিদেশে যেতেন। এখন অধিকাংশ রোগী এসব চিকিৎসা দেশেই নিতে পারছেন।

তিনি বলেন, দেশে পিসিআই বা হৃদরোগের রক্তনালির চিকিৎসার জন্য একাধিক কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরেও এ ধরনের সেবা বাড়ছে। এসব কেন্দ্র যাতে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সিএবিজি বা বাইপাস সার্জারির ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পর ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ধীরে ধীরে এ চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। উত্তরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে এ ধরনের চিকিৎসা হচ্ছে।

ভাস্কুলার সার্জারির ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে জানান তিনি। আগে এ ধরনের চিকিৎসার জন্য রোগীদের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আসতে হতো। এখন সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ভাস্কুলার সার্জারি হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের এই অগ্রগতি এক দিনে হয়নি। অনেক চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দীর্ঘদিনের শ্রম ও ত্যাগের ফলে এই সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তিনি তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

এনআইসিভিডিতে চিকিৎসক ও অধ্যাপকের সংখ্যা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, এখানে বিভিন্ন বিষয়ে বিপুলসংখ্যক অধ্যাপক রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে আরও কাজে লাগানো প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ দিতে হবে। একজন অধ্যাপক যদি দীর্ঘ সময় ধরে খুব কম রোগীর চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারে যুক্ত থাকেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়বে না। একই সঙ্গে নতুন চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের সুযোগও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বেশি সংখ্যক চিকিৎসককে প্রশিক্ষিত করতে হবে। তাঁদের নিয়মিত কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে। এতে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়বে।

৪৫ বছরের পথচলা

এবারের সম্মেলনের সঙ্গে এনআইসিভিডির হৃদরোগ সার্জারির দীর্ঘ পথচলাও স্মরণ করা হচ্ছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৎকালীন ইনস্টিটিউট অব কার্ডিও-ভাসকুলার ডিজিজেসে (আইসিভিডি) দেশের প্রথম সফল ওপেন-হার্ট সার্জারি করা হয়।

এই ঐতিহাসিক ঘটনার ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কার্ডিওভাসকুলার সার্জিক্যাল সম্মেলন-২০২৬ আয়োজন করা হয়েছে।

১৮ সেপ্টেম্বর এনআইসিভিডি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্মারক ফলক উন্মোচন, র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, ওয়েট ল্যাব ও সার্জিক্যাল কৌশল প্রদর্শন এবং বৈজ্ঞানিক অধিবেশন।

এ ছাড়া দেশের প্রথম ওপেন-হার্ট সার্জারির দিনটি স্মরণ করে সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন রয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্রও কর্মসূচির অংশ।

সম্মেলনের আয়োজন করেছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ।

আরও পড়ুন

×