দেশে আট মাসে নিখোঁজের পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার: আসক
ফাইল ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:০১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে হত্যা, ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৫৫ শিশুর। এ ছাড়া বছরের প্রথম সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে আসক।
কুমিল্লায় নিখোঁজ থাকা ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর রোববার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় আসক। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য সংগ্রহ করে ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
আসক বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুদের মরদেহ উদ্ধার, ধর্ষণের পর হত্যা, নির্যাতনসহ নানা সহিংসতার ঘটনা শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অন্তত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনও নিখোঁজ। তবে নিখোঁজের তথ্য পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ না হওয়ায় এ পরিসংখ্যান নিয়েও বিভ্রান্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব উল্লেখ করে আসক বলেছে, সংবিধান, জাতীয় শিশু নীতি, শিশু আইন এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী এ দায়িত্ব পালনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে একটি সমন্বিত ও নিয়মিত হালনাগাদ জাতীয় তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি। এর মাধ্যমে নিখোঁজ, উদ্ধার এবং এখনও নিখোঁজ শিশুদের প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ঝুঁকির ধরন চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলে মনে করে আসক।
এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো শিশুর মরদেহ উদ্ধার হলে ঘটনাটিকে শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আসকের নির্বাহী পরিচালক শাহীনুর রহমান। তিনি বলেন, শিশুটি কীভাবে নিখোঁজ হলো, তাকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, কোনো অবহেলা বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না এবং অপরাধের সঙ্গে কারা জড়িত, এসব বিষয় নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
আসকের মতে, একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধার হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া, সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।