ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

মিরপুরে গার্মেন্টস কর্মী সায়মন হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

মিরপুরে গার্মেন্টস কর্মী সায়মন হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড
×

ফাইল ছবি

আদালত প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:১৮

রাজধানীর মিরপুরে গার্মেন্টস কর্মী সায়মনকে ছিনতাইয়ের পর হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় চোরাই মোবাইল ফোন কেনার দায়ে সুজন নামে একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে দণ্ডিত সুজন পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রায় ঘোষণার আগে পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বর্তমানে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। ছিনতাইয়ের পর আঘাত করার ঘটনাও ঘটছে। অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, এসব ঘটনায় বিচার হয় না এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না।

আদালত বলেন, এ মামলায় ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১৭ বছর এবং সে উপার্জনক্ষম ছিল। সমাজের প্রতি মেসেজ দেওয়ার জন্য এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর আসামিদের সাজা পরোয়ানায় কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, পুলিশ মারধর করে জোর করে তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। তারা আরও বলেন, ‘এদেশে যার টাকা আছে, তার বিচার আছে।’

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের অতিরিক্ত পিপি আবুল কালাম আজাদ। অন্যদিকে, রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী রেজাউল হক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর মিরপুর-১ নম্বরে লিবার্টি গার্মেন্টস থেকে বেতন তুলে সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে কেনাকাটা করতে যান সায়মন। রাত ৯টার দিকে কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরার পথে আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে এক ব্যক্তি তাকে বলেন, তিনি নাকি ওই ব্যক্তির ছোট ভাইকে মারধর করেছেন। ‘কথা আছে’ বলে ভয় দেখিয়ে সায়মন ও রিফাতকে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় তুলে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাঁচাবাজারের সামনে রিফাতকে রিকশা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে সায়মনকে স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যায় ওই তিন ব্যক্তি। সেখানে চাকু দেখিয়ে তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন দিতে বলা হয়। সায়মন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

সায়মনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা সায়মনের মোবাইল ফোন সুজনের কাছে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করার কথা স্বীকার করে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত শেষে দারুস সালাম থানার এসআই সোহান আহমেদ ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

×