পূজায় উচ্চশব্দে মাইক, আতশবাজি ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা
ঢাকঢোল, কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখর দেশের পূজামণ্ডপগুলো। শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে তোলা- মাহবুব হোসেন নবীন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:২০ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৩৯
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধবভাবে উদ্যাপনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোর জন্য ২৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ। এতে উচ্চশব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পূজা উদ্যাপন পরিষদের নির্দেশনায় পূজামণ্ডপে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বিদ্যুতের অপচয় রোধ, বিকল্প বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পূজা আয়োজনের প্রতিটি পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পূজামণ্ডপ সাজানো ও অন্যান্য আয়োজনে প্লাস্টিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। বিদ্যুতের অপচয় রোধে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখতে হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে মণ্ডপ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময় জরুরি কার্যক্রম সচল রাখতে জেনারেটর, ইউপিএস, সোলার প্যানেল, চার্জার লাইট অথবা এ ধরনের বিকল্প বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ-সংযোগের ক্ষেত্রে উন্নত মানের তার ও নিরাপদ সংযোগব্যবস্থা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে উচ্চশব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে পরিষদ। ধর্মীয় ও ভক্তিমূলক সংগীতের বাইরে অন্য গান বাজানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পূজার আয়োজন যেন আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য অসুবিধা কিংবা শব্দদূষণের কারণ না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা বলেন, পূজামণ্ডপে উচ্চস্বরে ডিজে বাজানোর ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ধর্মীয় গান বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি মন্দির ও পূজামণ্ডপে নিজস্ব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশপথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখার কথাও বলা হয়েছে।
প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে পূজা সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পরিষদ। প্রতিমা নিরঞ্জন ও বিসর্জনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তারিখ ও স্থান অনুসরণ করতে হবে। বিসর্জন শোভাযাত্রায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে সন্ধ্যার মধ্যেই বিসর্জন সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পূজামণ্ডপে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের যাতায়াত বা প্রবেশের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে বলা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর সংরক্ষণ করে তালিকা সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে জমা দিতে হবে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ব্যবহারের নির্দেশনাও রয়েছে।
কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে গুজব না ছড়িয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে। ইভটিজিং, ছিনতাই কিংবা অন্য কোনো অপরাধে কাউকে জড়িত পাওয়া গেলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধারও প্রতীক। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজা ২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সম্প্রীতিময় ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ।