ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন চান গুমের শিকার ব্যক্তিরা

সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন  চান গুমের শিকার ব্যক্তিরা
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বীকৃতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন গুম-নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। একইসঙ্গে বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরে তারা বলেছেন, দেশে ভবিষ্যতে আর কেউ যেন গুমের শিকার না হন এবং গুম খুনের সংস্কৃতিও ফিরে আসতে না পারে তার সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। 

গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠকে এসব দাবি উঠে আসে। এদিন বিগত ১৭ বছরে নির্যাতন ও গুমের শিকার ব্যক্তি এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে মতবিনিময় করে বিশেষ কমিটি। 

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মতবিনিময়ে একটি অভিন্ন বক্তব্য এসেছে। দেশে যাতে ভবিষ্যতে কেউ গুমের শিকার না হয়, সে ব্যবস্থা যেন করা হয়। গুমসংক্রান্ত যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর যেন দ্রুত, সুষ্ঠু বিচার হয়। যারা গুমের শিকার হয়ে এখনও ফিরে আসেননি, তাদের পরিবারের জন্য সহায়-সম্পত্তির ব্যবস্থা করার আবেদনও করেছেন। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন করেছে। সেখানে এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আমাদের প্রবর্তন করতে হবেই। এর কোনো বিকল্প নেই। তবে এই সরকার কী প্রক্রিয়ায় গঠন হবে, ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং কত দিনের মধ্যে গঠন করতে হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে বিতর্ক এড়াতে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে কমিটি। সংসদে বিল আসার পরও এ বিষয়ে বিতর্ক হবে, অনেক পরামর্শ-প্রস্তাব আসতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, গুম প্রতিরোধে সংবিধানে নতুন করে কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন নেই। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ইতোমধ্যে আইন করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যাতে কেউ গুমের শিকার না হন, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
নিজেও গুমের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, তারা চান বাংলাদেশে আর কখনও ওই রকম সময় ফিরে না আসুক। গুমের অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ হোক। দেশে আর কখনও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হবে না, কেউ গুম ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন না, কারা হেফাজতে কারও মৃত্যু হবে না। এ রকম একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশায় ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছে। 
বিশেষ কমিটির সভাপতি বলেন, বিরোধী দল রাস্তায় আন্দোলন করছে। তাদের দাবিগুলো নিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এলে কমিটি তাদের বক্তব্য শুনতে পারত। কিন্তু তারা রাস্তার আন্দোলনটাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বৈঠকে অনেক রকমের পরামর্শ পেয়েছে কমিটি। এগুলো সমন্বিত করে কমিটি বৈঠকে আলোচনা করবে। কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের পর্যায়ে আসতে পারেনি।
আইজিপির ক্রসফায়ার সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইজিপির মন্তব্যের ব্যাখ্যা পরবর্তী সময়ে দেওয়া হয়েছে। আইনের কঠোর প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হয়তো অসতর্কভাবে তিনি সেই শব্দচয়ন করেছেন। তবে এ জাতীয় শব্দচয়ন করাটা সঠিক নয়।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের ৮ মাসের মধ্যে কোনো ক্রসফায়ার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুমের ঘটনা ঘটেনি। একটা অভিযোগ আছে, সেটা নিয়ে সরকার তদন্ত করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে স্বাধীন তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

এখনকার বিরোধী দলের অনেকে গুম হয়েছিলেন, তাদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি উপস্থিত হননি।
বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে অংশ নেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। 
বৈঠকে গুম খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান এবং তাহসিনা রুশদীরসহ ৪৮ জন উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্যাতন এবং আইনগত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। প্রতিনিধিত্বকারী এই ৪৮ জনের তালিকা তৈরিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ‘মায়ের ডাক’সহ কয়েকটি সংগঠন সহযোগিতা করেছে।
বৈঠকে সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×