আন্দোলন ঠেকাতেই ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের গ্রেপ্তার: রাশেদ
রাশেদ খাঁন -ফাইল ছবি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২০ | ০৮:৩৬ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২০ | ০৯:২৩
দেশে চলমান ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন ঠেকাতেই বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সোমবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এই অভিযোগ করেন তারা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। গ্রেপ্তারদের পরিবারের সদস্যরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, যেহেতু আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করি, এর পেছনে যারা আসে, তাদের যদি এভাবে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশের অন্য যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে তাদের ভিতরে ভয়ের সঞ্চার করা যায়। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন যারা করছে, তাদের ভয় দেখাতেই আমাদের নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে। মামলাটিকে ‘রাজনৈতিক’ বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলাকারী ঢাবি শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা তাকে বলেছিলাম, ‘যারা এই ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়ে মামলা দিতে পারতেন। কিন্তু নুরুল হক নুরের মত একজন জনপ্রিয় ছাত্রনেতাকে হয়রানির করার জন্য মামলা আপনি দিতে পারেন না। আপনি কীভাবে মামলাগুলো করলেন বা কাদের পরামর্শে এটি বোধগম্য নয়।’ অন্য ধর্ষণের মামলার সঙ্গে এই মামলার পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশ শেষে প্রেস ক্লাব অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনটি। এতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে, ছাত্র অধিকার পরিষদ রোববার তাদের চার নেতাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করে। এর মধ্যে আছেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সোহরাব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ মাহমুদ।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও সোমবার বিকেলে সাইফুল ও নাজমুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাদের দু’দিনের রিমান্ড আদেশ দেন আদালত। তারা উভয়ই ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর করা মামলার আসামি।
এদিকে দুইজনের গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনশনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী। তবে সব আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ওই ছাত্রী বলেন, আজ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার ও তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সেক্ষেত্রে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। তবে ছয়জন আসামির প্রত্যেকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমি এখানে অবস্থান করবো।
নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি অসুস্থ ছিলাম, ব্লাড প্রেশার কমে গিয়েছিলো। আজকে আবার গলায় সমস্যা হচ্ছে। তবে এখন সুস্থ আছি।
- বিষয় :
- সাধারণ ছাত্র পরিষদ
- রাশেদ খাঁন