ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

পুরো ব্যবস্থারই সংস্কার করতে হবে: ড. জিয়া রহমান

পুরো ব্যবস্থারই সংস্কার করতে হবে: ড. জিয়া রহমান
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২০ | ১৪:৫৪

ধর্ষণ মামলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে তদন্তের পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান। তিনি বলেন, পুরো ব্যবস্থার সংস্কার না করে ধর্ষণ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আইন করলেও খুব বেশি কার্যকর হবে না। গতকাল সোমবার ধর্ষণের মামলায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করে সরকার। এরপর এক প্রতিক্রিয়ায় সমকালকে এসব কথা বলেন এই সমাজবিজ্ঞানী।

তিনি বলেন, যখন দেশজুড়ে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে, তখন দল-মত-পেশা নির্বিশেষে সবাই এর জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এখানে সবার আবেগটা কাজ করছিল। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়ে একটা জনমতও গড়ে উঠেছিল। সরকার এই জনমতকেই সমর্থন দিয়ে সেটাকে গ্রহণ করে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, দুটি জায়গা থেকে বিষয়টিকে আমাদের দেখা দরকার ছিল। প্রথমত, পুরো ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম অর্থাৎ পুলিশ, প্রসিকিউশন, আদালত এবং কারাগারকে সংস্কার করতে না পারলে যে আইনই করা হোক না কেন, খুব বেশি কার্যকর হবে না। কারণ, পুলিশ ঠিক না থাকলে এফআইআর হবে না ঠিকমতো, এফআইআর ঠিক না হলে তা আদালতে টিকবে না। যার ফলে ভুক্তভোগী তার প্রকৃত আইনি সহায়তা পাবেন না। ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমে পরিবেশিক ও সামন্তবাদী উপাদান থাকার কারণে সিস্টেমের এই চারটি উপাদান কোনো না কোনোভাবে অপরাধীকে রক্ষা করে। এই সিস্টেমে ভুক্তভোগীকে অনেক সময় সহায়তা দেওয়া হয় না। এ জন্য ভুক্তভোগী তটস্থ আর অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে চলে। তিনি বলেন, কঠোর আইন হলে ভয়ভীতির কারণে অপরাধ কিছুটা কমতে পারে। তবে অপরাধীর মানসিকতা সংস্কার করতে না পারলে ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন করার পরও যেমন খুব বেশি কার্যকর হয়নি, তেমনি শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করলেও তা খুব বেশি কার্যকর হবে না।

অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, দ্বিতীয়ত, সমাজ ব্যবস্থা সনাতনী থেকে আধুনিকের দিকে যাওয়ার ফলে সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সেই জায়গায় বিভিন্ন টেকনোলজির উন্নতির কারণে মাদক আর পর্নোগ্রাফি ঢুকে যাচ্ছে। সর্বোপরি, শুধু একটা দিক অ্যাড্রেস করে বাকি দিকগুলো না দেখলে চলবে না। এ দেশের সামাজিক অবস্থার মধ্যে যে জটিলতাগুলো রয়েছে, সেগুলো দূর করতে চাইলে একটা কার্যকরী পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। মানুষের চরিত্র গঠনে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। কাজেই শুধু আইন করলেই হবে না, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বয় করে মানুষের নৈতিক দিক উন্নত করলে সুফল পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন

×