বাইডেন প্রশাসনের অধীনে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে: রাষ্ট্রদূত মিলার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ০৭:০৩
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার বলেছেন, ২০২১ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছর। সম্ভাবনা এবং সুযোগ এতটাই বিকশিত যে নতুন বাইডেন প্রশাসনের অধীনেও বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
ইউএনবিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক কেবল দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে। আমি এই মুহূর্তে কোনো বড় পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না।
রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, নতুন প্রশাসনের নীতিগুলো কী তা দেখতে হবে এবং উল্লেখ করেন যে মন্ত্রিপরিষদের পদগুলোতে যারা যাবেন তাদের অনেকেই তার সুপরিচিত।
তাদের অনেকেরই ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দিকে প্রকৃত মনোযোগ রয়েছে, বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) এগিয়ে নেবেন কিনা জানতে চাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত যিনি ইউএস মেরিন কর্পস অফিসার হিসেবেও দায়িত্বও পালন করেছেন, বলেন, 'আমারও তাই মনে হয়। এটিকে যেভাবেই বলা হোক বা যেভাবেই রিব্রান্ড করা হোক না কেন, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ খুব দৃঢ় থাকবে।'
বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাকে তার প্রশাসনের অন্যতম সর্বোচ্চ গুরুত্বের স্থানে রেখেছিলেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে ভিয়েতনামে তিনি একটি মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের রূপরেখা দিয়েছিলেন, যেখানে সকল দেশ একসাথে সার্বভৌম, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সমৃদ্ধ হবে।
ন্যায্য ও পারস্পরিক বাণিজ্য, উন্মুক্ত বিনিয়োগের পরিবেশ, সুশাসন এবং সমুদ্রের স্বাধীনতা হলো তাদের লক্ষ্য যারা মুক্ত ও উন্মুক্ত ভবিষ্যতে উন্নতি করতে চায়।
রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, আমি আইপিএসকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) বিরোধী হিসেবে দেখছি না। আইপিএস হলো মার্কিন যুক্তিবাদ যে এ অঞ্চলটি সুশাসনের নীতি দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অবশ্যই লাভবান হতে পারে কারণ এখানে অপার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা এজন্য বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর দিকে নজর রাখবেন।
রাষ্ট্রদূত মিলার বলেছেন, পরিস্থিতি তৈরির জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে যাতে সকল রোহিঙ্গা নিরাপদে, মর্যাদার সাথে এবং স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে পারে এবং শিগগিরই তা শুরু করতে হবে।
বাংলাদেশ বলেছে, যদি ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সুযোগ না দেয়া হয়, তাহলে রোহিঙ্গারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে বিপদের মুখে ফেলবে।
আগামী ১৯ জানুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ঢাকায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করবে বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং চীন কারণ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনকে এই সঙ্কটের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখছে ঢাকা।
ত্রিপক্ষীয় এ প্রক্রিয়া সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এই সঙ্কট সমাধানে যে কোনো দেশ সহায়তা করতে পারে এবং এটি কার্যকর।
জেনেভা ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এবং রোহিঙ্গাদের সমর্থন করার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও সোচ্চার দেখতে চায় উল্লেখ করে মিলার বলেন, চাপটা মিয়ানমারের উপর থাকতে হবে। এই বিশাল বোঝা বাংলাদেশ বহন করবে এটি ন্যায়সঙ্গত নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এমন অনেক দাতা আছেন যারা এগিয়ে এসেছেন। অন্যরাও আমাদের সাথে যোগ দেবে আশা করি।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সঙ্কটের প্রতিক্রিয়ায় মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে অগ্রণী অবদান রেখে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালের আগস্টে সহিংসতা বৃদ্ধির পর থেকে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছে দেশটি, যার মধ্যে প্রায় ৯৬২ মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচির জন্য।
- বিষয় :
- রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার
- ঢাকা-ওয়াশিংটন