ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

অন্তিম শয়ানে কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন

অন্তিম শয়ানে কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন
×

বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইনের মরদেহে শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের মানুষ। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:৩১ | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:৩৫

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বুধবার সকালে শ্রদ্ধার ফুলে ছেয়ে যায় একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইনের মরদেহ। শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিসেবী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা, কবি, স্থপতি, সংস্কৃতি কর্মীসহ অনেকে শ্রদ্ধা জানান তার প্রতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান তার বিশেষ সহকারি ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ।

কবির কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলা একাডেমি, শিশু কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় কচি কাঁচার মেলা, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, স্থপতি রবিউল হুসাইন দেশের সব গ্রগতিশীল আন্দোলনে সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে ছিলেন; তাদের প্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন। আমরা তাকে অসময়ে হারালাম।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, রবিউল হুসাইন কবি হিসেবে বিশিষ্টজন ছিলেন। তার নিজের যে বিদ্যা, স্থাপত্যবিদ্যা, সেখানেও তার একটা ভূমিকা ছিল। রবিউল হুসাইন সব সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে চলেছেন।

রবিউল হুসাইনকে বহুমাত্রিক ও নিরহংকারী বর্ণনা করে নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, বহুমুখী কাজের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে পরিচিত হয়ে থাকবেন। তিনি আমাদের সাথে সব প্রগতিশীল আন্দোলনে ছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সমুন্নত রাখার জন্য সারাজীবন কাজ করে গেছেন। এছাড়া তিনি সব ধরণের সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে থেকে আমাদের প্রেরণা জুগিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, রবিউল হুসাইন বাংলাদেশে সত্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণের সব উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুতে এদেশের প্রগতিশীল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হলো। অসাধারণ স্থাপত্য ও সাহিত্য কর্মের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, রবিউল হুসাইন মানুষ হিসেবে বিরাট মাপের ছিল। তার একটি বিরাট গুণ ছিল- সে যেখানে যেত সেখানেই একটি শান্তির ছায়া নেমে আসত। সে রসিক মানুষ ছিল, কিন্তু কখনই অন্যায়ের প্রশ্রয় দেয় নাই।

শহীদ মিনারে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাখার পর রবিউল হুসাইনের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজার জন্য নেওয়া হয়। পরে তার কফিন নেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। সেখান থেকে তাকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন

×