ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

প্রকৃতি

অর্থকরী কতবেল

অর্থকরী কতবেল
×

মোকারম হোসেন

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:২২

মাত্র দুই দশক আগেও কতবেল কোনো বাণিজ্যিক পণ্য ছিল না। এখন রীতিমতো অর্থকরী ফল। শরতের মাঝামাঝি সময় থেকে হেমন্তকালজুড়েই চড়া দামে বাজারে বিকোয় এ ফল। কারণ মুখরোচক ফল হিসেবে এটি ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি গিয়েছিলাম বান্দরবানের হর্টিকালচার সেন্টারে। সেখানকার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান দেখালেন কয়েকটি কতবেল গাছ। ফলভর্তি গাছের ডালগুলো নুয়ে পড়েছে নিচে। তিনি মনে করেন, এই গাছগুলোর ফল আকারে বড়। তাই মনেও হলো। গাছগুলোর ফলন যেমন ভালো তেমনি ফলগুলোও আকারে বড়। এ ফল কম-বেশি প্রায় সারাদেশেই দেখা যায়। তবে শুধু ফল নয়; পাতা ও ডালপালার নান্দনিক বিন্যাসেও গাছটি অনন্য। কিন্তু ফলের উপযোগিতার কাছে গাছের সৌন্দর্য অনেকটাই উপেক্ষিত। অন্যান্য ফল গাছের মতো ফলের মৌসুম ব্যতীত গাছটির দিকে তাকানোর সময়ও থাকে না আমাদের। কতবেলের গাঢ় সবুজ পাতার কোলে ধূসর রঙের ফলগুলো দেখতে অনেকটা ফুলের মতোই লাগে। বরুণের ফলও দেখতে প্রায় একই রকম। তবে বরুণ ফল খাবার উপযোগী নয়।

কতবেল (Limonia acidissima) অতি পুরোনো একটি মুখরোচক ফল। মাঝারি আকৃতির পত্রমোচী গাছ। এই গাছ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ ফুট বা ১২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। শাখার কোণে চোখা কাঁটা থাকে। পত্রখণ্ডক গোলাকার। মঞ্জরিতে সবুজাভ সাদা বর্ণের অনেক ফুল থাকে। শীতের সময় সব পাতা ঝরে যায়। বসন্তে আবার কাঁচা সবুজ রংয়ের ছোট ছোট পাতায় ভরে ওঠে গাছ। গড়নের দিক থেকে পাতা অনেকটা কামিনী গাছের পাতার মতো। নতুন পাতার পরপরই ফুল আসতে শুরু করে। ফল গোলাকার, সবুজাভ-সাদা, শক্ত আবরণ আছে। পাকে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসের দিকে। গোলাকার এই ফলের আকৃতি অনেকটা ক্রিকেট বলের মতো। ফলের খোসা বেশ শক্ত। ভেতরের খাদ্যাংশটুকু অসংখ্য বীজে ভর্তি থাকে। পাকা ফল বোঁটার দিকে ছিদ্র করে ভেতরে নুন-মরিচ মিশিয়ে কাঠি দিয়ে খাওয়া হয়। আবার কেউ কেউ ভেতরের শাঁসটা বের করে মসলা মাখিয়ে খেতেও পছন্দ করেন। শহরবাসীর কাছে কতবেলের শাঁস এখন মুখরোচক চাটনি হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে। কতবেলের অনেক গুণ। সাধারণত পিত্তপাথুরি, পেটের বায়ু, প্রবল রক্তপিত্ত, আমাতিসার, অন্নজাত হিক্কা ও প্রবল বমিতে এ ফল কাজে লাগে। বীজ, শিকড় কাটিং ও বাডিং করে চারা উৎপাদন হয়। জন্মস্থান দক্ষিণ ভারতে।

আরও পড়ুন

×