ই-পাসপোর্ট কবে হবে
সবুজ ইউনুস
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৪:৩৭ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৪:৪৬
তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতি করলেও ই-পাসপোর্ট বা ডিজিটাল পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অগ্রগতি কিছুটা মন্থর। বর্তমানে বিশ্বে মোট ১১৯টি দেশের নাগরিকরা ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। এই পাসপোর্ট থাকলে বিমানবন্দরে ম্যানুয়ালি তেমন কোনো কাজ থাকে না। বেগ পেতে হয় না কোনো যাত্রীকে। সবকিছুই ডিজিটালি সম্পন্ন হয়। নিজেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। দুর্নীতি-অনিয়মের সুযোগ তেমন থাকে না। বিমানবন্দরে সহজে ডিজিটাল গেট বা ই-গেট দিয়ে যাত্রীরা দ্রুত সেবা পেতে পারেন।
সরকার ২০১৭ সালে ডিজিটাল পাসপোর্ট প্রকল্প অনুমোদন করে। তবে নানা জটিলতায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আশানুরূপ গতি পাচ্ছে না। সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে সমকাল জানতে পেরেছে, কবে নাগাদ এই পাসপোর্ট নাগরিকরা হাতে পাবেন তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সমকালকে জানান, চলতি ডিসেম্বর মাস থেকেই ই-পাসপোর্ট দেওয়া শুরু হতে পারে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করার জন্য সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে দিনক্ষণ ও সময় চাওয়া হয়েছে। তারা সময় দিলে এর আয়োজন করা হবে। তবে কবে নাগাদ উদ্বোধন করা হতে পারে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
বাংলাদেশে এক সময় হাতে লেখা বা ম্যানুয়াল পাসপোর্ট ব্যবহার হতো। কিন্তু বিশ্বে এটি অগ্রহণযোগ্য হলে শুরু হয় এমআরপি বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট। এই মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের দিনও শেষ হয়ে আসছে। নতুন করে এসেছে ডিজিটাল বা ই-পাসপোর্ট। বর্তমানে এমআরপি পাসপোর্টও চলমান রয়েছে। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই এমআরপির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। ফলে যথাসম্ভব দ্রুত ডিজিটাল পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্টে যেতে হবে বাংলাদেশকে।
সূত্র জানায়, গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডিজিটাল পাসপোর্ট উদ্বোধন করার কথা ছিল। এরপর চলতি বছর বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও চালু করা সম্ভব হয়নি। এমআরপি দিয়েই কাজ চলছে। অনেকে ই-পাসপোর্ট নেওয়ার জন্য এমআরপি নবায়ন করছেন না।
সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জি টু জি প্রক্রিয়ায় জার্মানির ভেরিডোস জিএমবিএইচ নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। সে অনুযায়ী জার্মানিতে তৈরি ডিজিটাল পাসপোর্টের চিপসসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং বিমানবন্দরে ইলেকট্রনিক গেটের সরঞ্জামাদি সরবরাহসহ ই-পাসপোর্ট সংশ্নিষ্ট কিছু সরঞ্জাম সরবরাহের কথা ছিল এই প্রতিষ্ঠানের। দরপত্রের স্পেসিফিকেশনে এই বাধ্যবাধকতা ছিল। সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র নাম না প্রকাশের শর্তে সমকালকে জানায়, জার্মানির এই প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করেছে চীন দেশে তৈরি পাসপোর্টের সরঞ্জামাদি। এগুলো জার্মানির মতো উন্নতমানের নয়। জনগণকে ই-পাসপোর্ট সরবরাহ প্রক্রিয়ায় এখানেই জটিলতার মূল সূত্রপাত বলে জানা গেছে। সরবরাহ করা সরঞ্জাম নিম্নমানের হওয়ায় তা গ্রহণ করেনি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ করার কারণে ভেরিডোসকে যে অর্থ পরিশোধ করার কথা ছিল তা আটকে দেওয়া হয়েছে। এতে করে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলে জানা গেছে।
পাসপোর্ট অফিস সূত্র বলছে, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অনুকূলে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসে খোলা এলসির বিপরীতে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী জার্মানির তৈরি পণ্য সরবরাহ করেনি। ভেরিডোস এনেছে চীনের তৈরি সরঞ্জাম। নিম্নমানের এ পণ্য গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।
ই-পাসপোর্টের সরঞ্জাম আমদানির জন্য মোট ২ কোটি ৬০ লাখ ইউরোর এলসি খোলা হয় জার্মানির একটি ব্যাংকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্যমান ২৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে এলসি খোলার সময় ১২ লাখ ইউরো সমমূল্যের ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর। বাকি অর্থ পরিশোধ করার কথা ছিল পণ্য দেশে আসার পর। তবে সরবরাহ করা পণ্য নিম্নমানের হওয়ায় অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। এদিকে এই অর্থ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করছে জার্মানির প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস।
জানা গেছে, ভেরিডোসের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছে। বৈঠকে সোনালী ব্যাংক অর্থ পরিশোধ না করার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। ব্যাংক জানিয়েছে, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অনুকূলে জার্মান ব্যাংকে এলসি খোলার সময় বেশ কিছু শর্ত ছিল। এর একটি ছিল পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র পাওয়ার পর সোনালী ব্যাংক অর্থ পরিশোধ করবে। তবে পাসপোর্ট অধিদপ্তর অনাপত্তি দেয়নি। বরং অর্থ পরিশোধ না করার জন্য সোনালী ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে অর্থ পরিশোধ করেনি ব্যাংক। যদিও এলসির আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহক প্রতিষ্ঠান টাকা দিক বা না দিক পণ্য দেশে আসার পর ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করার কথা।
জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, পাসপোর্ট অধিদপ্তর টাকা দিলে জার্মানির ব্যাংককে তারা টাকা পরিশোধ করবেন। তবে জার্মানির প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস নির্দিষ্ট মানের পণ্য সরবরাহের কথা বলে দুর্বল মানের পণ্য সরবরাহ করে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। বিষয়টি জানার পর তারা অর্থ দিতে পারেন না। এখন দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত হবে তা প্রতিপালন করবে সোনালি ব্যাংক।
জানা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন করে ডিজিটাল পাসপোর্ট উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু জার্মানির প্রতিষ্ঠান ভেরিডোসের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সংকট, বিমানবন্দরে ই-গেট স্থাপনের কাজে মন্থরগতি, নীতিমালা এবং ফি নির্ধারণ চূড়ান্ত না হওয়ায় তা ঝুলে যায়। এ ছাড়া পাসপোর্টে বায়োমেট্রিক ১০ আঙুলের ছাপসহ কিছু জটিলতা দেখা দেয়। ফলে এমআরপি বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট নিয়েই আপাতত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণ করতে হচ্ছে।
প্রকল্প ব্যয় : ২০১৭ সালে চার হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ই-পাসপোর্ট বা ডিজিটাল পাসপোর্ট প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। গত বছরের জুলাই মাসে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে ই-পাসপোর্ট ও অটোমেটেড বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানির সঙ্গে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জি টু জির ভিত্তিতে টার্ন কি পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়। চুক্তি অনুযায়ী জি টু জি প্রকল্পের আওতায় জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানি তিন কোটি ই-পাসপোর্ট বুকলেট সরবরাহ করবে। ঢাকার উত্তরায় বুকলেটের জন্য একটি অ্যাসেম্বলি কারখানা স্থাপন করা হয়। যাতে বুকলেটের খরচ অর্ধেকেরও কম হবে। দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ৫০টি ই-গেট প্রদান করার কথা থাকলেও মাত্র তিনটি ই-গেট স্থাপন করা হয়েছে। তারা সব সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক ১০ বছরের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদান করবে। চুক্তি অনুযায়ী পাসপোর্টের ইলেকট্রনিক চিপে ১০ আঙুলের ছাপ থাকার কথা। তবে ভেরিডোস মাত্র দুটি আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করতে চাচ্ছে। এতে রাজি নয় পাসপোর্ট অধিদপ্তর। তারা বলছেন, মাত্র দুই আঙুলের ছাপে ভবিষ্যতে জালিয়াতি হতে পারে, এটা নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়। এ নিয়ে জার্মান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক ও চিঠি চালাচালি হলেও সমস্যার সমাধান হয়েছে কি-না তা জানা যায়নি।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, ই-পাসপোর্টে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে। বর্তমানে এমআরপি ডাটাবেজে যেসব তথ্য আছে, তা ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে। ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমআরপি পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যাবে না। তবে কারও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাকে এমআরপির বদলে ই-পাসপোর্ট বা ডিজিটাল পাসপোর্ট নিতে হবে। বর্তমানে বই আকারে যে পাসপোর্ট আছে, ই-পাসপোর্টেও একই ধরনের বই থাকবে। ই-পাসপোর্ট বুকলেটের পাতায় পাতায় নতুন আঙ্গিকে দেশের উল্লেখযোগ্য স্থানের ছবি সন্নিবেশিত করে তা আরও দৃষ্টিনন্দন করা হবে। তবে বর্তমানে পাসপোর্টের বইয়ের শুরুতে ব্যক্তির তথ্যসংবলিত যে দুটি পাতা আছে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। সেখানে থাকবে পলিমারের তৈরি একটি কার্ড। এই কার্ডের মধ্যে থাকবে একটি চিপ। সেই চিপে পাসপোর্টের বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট মূলত একটি এমবেডেড ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর (মোবাইলের মেমোরি কার্ডের মতো) চিপ সংবলিত। এই মাইক্রোপ্রসেসর চিপে পাসপোর্টধারীর বায়োগ্রাফিক ও বায়োমেট্রিক (ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের মণি) তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পাসপোর্টধারীর পরিচয়ের সত্যতা থাকে। ই-পাসপোর্ট ই-গেটের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখার সঙ্গে বাহকের পরিচয় নিশ্চিত করবে। নির্দিষ্ট নিয়মে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ভ্রমণকারী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবেন। ই-গেটে কোনো তথ্যবিভ্রাট ঘটলেই লালবাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিকে সঠিকভাবে ই-পাসপোর্ট ব্যবহারে সহযোগিতা করবেন।
এমআরপি এবং ই-পাসপোর্টের পার্থক্য: এমআরপি আর ডিজিটাল পাসপোর্টের মধ্যে পার্থক্যকে তুলনা করা যেতে পারে অনেকটা চেকবই আর এটিএম কার্ডের মতো। চেকবইয়ে স্বাক্ষর যাচাইবাছাই করে ব্যাংক কর্মকর্তারা অনুমোদন করে টাকা প্রদান করেন; কিন্তু এটিএম কার্ড দিয়ে যে কেউ নিজে থেকেই টাকা তুলতে পারেন। তেমনি এমআরপি পাসপোর্টে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তথ্য যাচাইবাছাই করে পাসপোর্টে সিল দিয়ে থাকেন। কিন্তু ই-পাসপোর্টধারী যন্ত্রের মাধ্যমে নিজে থেকেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন। তবে পরবর্তী ধাপে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারাই পাসপোর্টে আগমন অথবা বহির্গমন সিল দেবেন।
ভিসা প্রথা: প্রচলিত ব্যবস্থার মতো ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও ভিসার বিষয়টি একই থাকবে। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি বা অনলাইনে ভিসার শর্ত পূরণ করেই ভিসা নিতে হবে।
ভিসা কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসগুলো আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করবে। এরপর তারা বইয়ের পাতায় ভিসা স্টিকার, সিল দিতে পারবে বা বাতিল করে দিতে পারবে। ই-পাসপোর্টের প্রচলিত ব্যবস্থার মতো ভিসা নিতে হবে
এমআরপিও থাকবে: আপাতত ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি প্রচলিত এমআরপি পাসপোর্ট ব্যবস্থাটিও বহাল থাকবে। তবে ডিজিটাল চালু হলে নতুন করে আর কাউকে এমআরপি পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে না। বর্তমানে এমআরপি পাসপোর্টধারীরা যখন নবায়ন করতে যাবেন, তখন তাদেরকেও ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব এমআরপি পাসপোর্ট তুলে নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ই-পাসপোর্ট
- ডিজিটাল পাসপোর্ট
- তথ্যপ্রযুক্তি
