প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেদন
পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কারাগারে
মানহানির মামলায় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানূর ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৮:৩২ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ০৯:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানূর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে গতকাল শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শীর্ষক প্রতিবেদন ও ফটোকার্ড প্রচারের ঘটনায় করা মানহানির মামলায় অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদকসহ চার সাংবাদিককে আসামি করা হয়।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান সমকালকে জানান, বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রেজানূর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে বগুড়ার শিবগঞ্জে অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদকসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলার রেজানূর ইসলামকে গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদকসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি করেছেন বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও স্থানীয় দৈনিক মহাস্থান পত্রিকার সম্পাদক তানভীর আলম রিমন। তিনি নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। মামলা করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী তাঁকে কোনো নির্দেশনা দেননি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় রাজনীতিবিদরা বলছেন, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে রিমনের ঘনিষ্ঠতা আছে। গত মে মাসে রিমন শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গতকাল প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকের দ্রুত মুক্তি কামনা করেছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, যেহেতু মামলার বাদীও একজন সাংবাদিক এবং বগুড়া প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ, তাই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া কাম্য নয়। তিনি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
- বিষয় :
- কারাগারে
- প্রতিমন্ত্রী
- মীর শাহে আলম
- সংবাদপত্র
- সম্পাদক
