ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে মা-ছেলের ইতিহাস

বিশ্বকাপে মা-ছেলের ইতিহাস
×

ইরানের বিপক্ষে বিরল এক কীর্তির অংশীদার হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের টাইলার বিন্দন। ২০০৭ ও ২০১১ নারী বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের গোলবার সামলেছেন তাঁর মা জেনি বিন্দন। ছবি- সংগৃহীত

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৯:৪১ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ০৯:৪৩

ইরানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ শুরুর অনেক আগেই মাঠে পৌঁছে গিয়েছিলেন দেশটির সাবেক নারী ফুটবলার জেনি বিন্দন। সঙ্গে নিয়েছিলেন পরিবারের ছোট-বড় সকলকে। চড়া মূল্যের টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হওয়ার আলাদা একটা গুরুত্ব ছিল জেনির কাছে। ২১ বছর বয়সী ছেলেকে দেখতে পাবেন নিউজিল্যান্ডের ডাগআউটে। বিশ্বকাপে ছেলের অভিষেক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দুরু দুরু বুকে অপেক্ষায় ছিলেন গ্যালারিতে। একটু একটু করে ম্যাচ শেষের সময় ঘনিয়ে এলে ছেলের অভিষেকের আশা একপ্রকার ছেড়েই দেন জেনি। ম্যাচের শেষ দিকে ঘটে জেনির জন্য বহুল আকাঙ্ক্ষিত সে ঘটনা। শেফিল্ড ইউনাইটেডের সেন্টার ব্যাক টাইলার জিন্দন বদলি নামেন। তিনি মাঠে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে মা-ছেলের অন্যরকম এক জুটি গড়ে ওঠে। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা প্রথম মা-ছেলে তারা। বাবা-ছেলে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার অনেক রেকর্ডের পাশে ১৬ জুন লেখা হয় মা-ছেলের ইতিহাস। 

জেনি জানান, নিজে খেলার চেয়েও ছেলের টাইলারের খেলা দেখা কঠিন তাঁর জন্য। ছেলের খেলা চাপে রাখে তাঁকে। বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া হলে আবেগ ছুঁয়েছে টাইলারকেও। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আজকের (১৬ জুন) দিনটি অনেক কারণেই বিশেষ (স্পেশাল) আমার জন্য। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। আর বিশ্বকাপ খেলা প্রথম মা-ছেলে জুটি হিসেবে মায়ের সঙ্গে বিশেষ মুহূর্তটি ভাগ করে নিতে পারা আমার জীবনের অন্যতম সেরা অনুভূতি।’ টাইলারের মা জেনি বিন্দন নিউজিল্যান্ড মহিলা দলের সাবেক গোলরক্ষক। ২০০৭ ও ২০১১ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেন তিনি। ২০০৮ সালে বেইজিং আর ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিক গেমসে খেলেছেন দেশের জার্সিতে। 

২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৭৭টি ম্যাচ খেলেন জেনি। এক দশকের বেশি সময় জাতীয় দলের গোলপোস্ট সামলান তিনি। খেলা ছেড়ে কোচ হয়েছেন জেনি। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ইউসিএলএ’র নারী ফুটবল দলের সহকারী কোচের চাকরি নিয়ে নিউজিল্যান্ড থেকে চলে আসেন সপরিবারে। টাইলার তখন ১২ বছরের কিশোর। মায়ের মতো ছেলেও ফুটবলে দীক্ষা নিতে থাকেন। ফুটবল শিখতে ভর্তি হন লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির একাডেমিতে। সেখান থেকেই পেশাদার ফুটবলে প্রবেশ টাইলারের। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক তাঁর। ক্লাব ফুটবল খেলেন ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম ফরেস্টের হয়ে। বিশ্বকাপ খেলে মা-ছেলে ইতিহাস গড়লেও টাইলারের বাবা গ্র্যান্ট বিন্দনও পিছিয়ে নেই। নিউজিল্যান্ড জাতীয় ভলিবল দলের অধিনায়ক ছিলেন গ্র্যান্ট। সেদিক থেকে বলতেই পারেন ক্রীড়া দম্পতির গর্বিত সন্তান ফুটবলার টাইলার।

এই প্রথম মা-ছেলে বিশ্বকাপে নাম লেখালেও বাবা-ছেলের জুটি আছে অনেক। বিশ্বকাপ খেলা ২৫টি বাবা-ছেলে জুটির খোঁজ পাওয়া যায় রেকর্ড বুকে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লদিও রেইন ও তাঁর ছেলে জিও রেইন আর নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ও তাঁর বাবা আলফ-ইঙ্গ হালান্ডের নাম থাকবে তালিকার শীর্ষে। 

বিশ্বকাপে টাইলারের অভিষেকের ম্যাচটি ইরানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে নিউজিল্যান্ড। ২২ জন সোমবার নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ম্যাচ মিশরের সঙ্গে। সেদিনের সন্ধ্যায় ভ্যাঙ্কুভারে টাইলারদের খেলা দেখতে নিশ্চয়ই মাঠ থাকবেন জেনি।

আরও পড়ুন

×