ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

স্কালোনির চালে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

স্কালোনির চালে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
×

ছবি- এএফপি

বিশেষ প্রতিনিধি, ডালাস থেকে

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৯:৩৯

হোটেল রুমে হঠাৎই ইলেকট্রনিক সাইরেন। রুমের স্পিকারে ভয়েজ মেসেজ–‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড ওয়ার্নিং।’ শহরের বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে, যে কোনো সময় বন্যার মতো পানি ধেয়ে আসতে পারে। তাই সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৪০-এর মধ্যে কেউ যেন বাইরে না বের হয়। গতকাল মিনিট দশেকের বৃষ্টিতেই শহরটটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তাদের সিটি হল থেকে এই ‘ডালাস এলার্ট’ বাজিয়ে দিয়েছে, আসল এলার্ম তো এই শহরে দিয়ে রেখেছে ফিফা। ঝড়ের বার্তা নিয়ে আর তিন দিন পর ডালাসে আসছে মেসির আর্জেন্টিনা। সেদিন কি তাহলে ‘মেসি অ্যালার্ট’ বাজবে শহরে?

২২ জুন এখানেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ঠিক আগের দিন পৌঁছাবে তারা ডালাসে। আপাতত কানসাসে সেই মিসৌরি নদীর ধারে সুনশান ক্যাম্পে আছেন মেসিরা। তবে অগ্রবর্তী দল হিসেবে তাদের সমর্থকরা কিন্তু ভিড় করছে ডালাসে। এখানকার লাতিনো পাড়াগুলোতে কান পাতলে বোঝা যায়–আর্জেন্টাইনদের অন্দরমহলের খবর নিয়ে উৎকণ্ঠা এখানেও কম নয়। খবর এলো, হোর্হে মেসি এখন পুরোপুরি সুস্থ। স্বস্তির নিঃশ্বাস। কোচ লিওনেল স্কালোনি নাকি অলরেডি একাদশে বড়সড় অস্ত্রোপচারের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। দাবার বোর্ডে ঘুঁটি ওলটপালট হতে চলেছে। সেখানে প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরুর একাদশে খেলা অনেকেই থাকছেন না অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শুরুতে। আর্জন্টিনার প্রভাবশালী গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস অন্তত তেমনই খবর দিচ্ছে। গঞ্জালো মন্তিয়েল, থিয়াগো আলমাডা আর লাউতারো মার্টিনেজকে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শুরুর একাদশে নাও নামাতে পারেন স্কালোনি। তাদের জায়গায় তাঁর ভরসা–নাহুয়েল মলিনা, নিকোলাস গঞ্জালেস আর জুলিয়ান আলভারেজ।

সর্বশেষ অনুশীলন সেশনে মন্তিয়েলকে ট্রেনারের সঙ্গে আলাদা কাজ করতে দেখা গেছে। আলজেরিয়া ম্যাচে সেভাবে পারফর্ম করতে পারেননি এই রাইট ব্যাক। তাছাড়া হালকা চোটও রয়েছে তাঁর। তাই ওয়ার্ক লোড কমাতে তাঁকে বিশ্রামে রাখতে পারেন স্কালোনি। লাউতারোকেও ম্যাচের শুরুতে নয়, আরও পরে নামানোর কৌশল নিয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তবে সবার প্রথমে তিনি চাইছেন মেসিকে মেসির মতো করে শান্তিতে রাখতে। গত কয়েক দিনের কিছু ঘটনায় মেসি নাকি বিরক্ত। সেদিন আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোলটি করার পর জার্সি দিয়ে চোখ মুচছিলেন। কারণও বলেছিলেন ঘটনার সঙ্গে খেলার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরেও আর্জেন্টাইন ও স্প্যানিশ দৈনিকগুলোর শিরোনাম–মেসির বাবার অবস্থা সংকটাপন্ন, তাই কেঁদেছিলেন তিনি। ঠিক যে, তাঁর বাবা অসুস্থ। এবারে ছেলের বিশ্বকাপ খেলা দেখতে আসতে পারেননি। সেই জানুয়ারি থেকেই নাকি তিনি কিছুটা অসুস্থ। তাই বলে গুরুতর কিছু নয়। ব্যাপারটিকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করা হয়েছে। এসব নিয়ে মেসি এতটাই বিরক্ত যে আর্জন্টাইন ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকে শেষমেশ বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিতে হয় যে তাঁর বাবা হোর্হে মেসি সুস্থ আছেন।

ক্যামেরার লেন্স যে তাঁকে পেলেই মাইক্রোস্কোপের লেন্স হয়ে যায়, সেটি ভালোভাবেই জানেন তিনি। তাই কানসাসের অনুশীলন সেশন শুরুর আগে যেটুকু সময় দেওয়া হয় মিডয়াকে, তার বেশিরভাগ সময়ই পিঠ ঘুরিয়ে থাকেন লিওনেল মেসি। একটা অবিশ্বাস আর অনাস্থা নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে সচেতন দূরত্ব তাঁর। বৃহস্পতিবার দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছিলেন, তবে সেখানেও ওয়ার্মআপে যতটা সম্ভব ওই ক্যামেরার চোখকে ফাঁকি দিয়ে। আসলে ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইট, সেলফির বাড়িয়ে দেওয়া হাত থেকে সরিয়ে তাঁকে কানসাসের ওই উইন্ডো সিটে নিজের মতো একটু বসতে দিতে চাইছেন স্কালোনি। তাঁর ওই বাঁ পায়ের একটা আলতো টোকা দেখার জন্যই তো এই ডালাস থেকে ঢাকা–সারা বিশ্ব চাতক পাখির মতো চেয়ে বসে আছে।

আরও পড়ুন

×