জড়িতদের শাস্তি দিন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৪৭
রাজাকারের তালিকায় অনেক স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম থাকার ঘটনায় সংশ্নিষ্ট
সবাইকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন
মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্টজন। এ ঘটনায়
মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক
মন্ত্রণালয়। একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে দায়মুক্ত হতে চাইছেন দুই
মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং কর্মকর্তারা।
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে প্রক্রিয়ায় আমলানির্ভর এ
তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা সঠিক ছিল না। অবশ্যই তালিকা প্রকাশের আগে এটির
সত্যতা ও যৌক্তিকতা নিরীক্ষার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণায় যুক্ত
ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা উচিত ছিল। তারা বলছেন, সরকারি
প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত-শিবির ও পাকিস্তানপন্থিরা
সুপরিকল্পিতভাবে রাজাকারের তালিকাকে বিতর্কিত করতে এবং সরকারের ভাবমূর্তি
নষ্ট করার জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে কি-না, তারও তদন্ত হওয়া উচিত।
রাজাকারের তালিকায় নাম ওঠা মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, এ ঘটনায় জড়িতরা শাস্তি না
পেলে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিতর্কিত করার হীন অপচেষ্টা
ভবিষ্যতেও ঘটার বা ঘটানোর আশঙ্কা থেকে যাবে। রাজাকারের তালিকা তৈরিতে যারা
দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন অথবা এ তালিকাকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে
যারা এ কাজ করেছেন, তাদের কঠোর শাস্তি হতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত :এ প্রসঙ্গে একাত্তরের ঘাতক দালাল
নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির সমকালকে বলেন, 'তালিকায় ভুল থাকার কথা
স্বীকার করে এটি প্রত্যাহার বা সংশোধনের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী এরই মধ্যে
দুঃখপ্রকাশ করেছেন। কিন্তু যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে অর্থাৎ তালিকাকে বিতর্কিত
করার প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল, তাদের এখন শনাক্ত করা প্রয়োজন। তাদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নিতে হবে। কীভাবে রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এলো, এই
টেম্পারিং কি আগের সরকারের আমলে হয়েছে, না বর্তমান সরকারের আমলেই হয়েছে,
এসব তদন্ত করতে হবে।' তিনি বলেন, 'এ তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া
অনুসরণ করা হয়েছে, তাও অস্পষ্ট। অবশ্যই তালিকা তৈরির সময় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে
গবেষণায় সংশ্নিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা উচিত ছিল।'
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবদুল
আহাদ চৌধুরী বলেন, 'একটি নীতিমালা করে উপজেলা পর্যায়ে প্রকৃত সব
মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে আলোচনার ভিত্তিতে রাজাকারের তালিকা চূড়ান্ত করা
প্রয়োজন।' তিনি বলেন, 'যেসব নথির ভিত্তিতে রাজাকারের তালিকা করা হয়েছে,
সেসব নথির অধিকাংশই পাকিস্তান সরকারের রেখে যাওয়া। তাই এসব নথিপত্রকে
গুরুত্ব দেওয়ার আগে তাদের মানসিকতা, তখনকার পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের খতিয়ে দেখা উচিত ছিল।'
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব সমকালকে বলেন, 'দেরি না করে এ
ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থাকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া
উচিত। প্রথম ধাপের তালিকার ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তার কারণে পূর্ণাঙ্গ ও
সর্বজনবিদিত স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া যাতে থেমে না
পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।'
ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. এম এ হাসান বলেন,
'দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া
হয়েছিল; কিন্তু নানা কারণে সেটি হয়নি। তবে বিভিন্ন উপলক্ষে বা গবেষণার অংশ
হিসেবে বেসরকারি কয়েকটি সংগঠন ও বিভিন্ন গবেষক শান্তি কমিটি, আলবদর, আলশামস
ও রাজাকার বাহিনীর অপূর্ণাঙ্গ তালিকা করেছে। এগুলো অসম্পূর্ণ হলেও
বিতর্কিত ছিল না। অথচ সরকার স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিলেও
সেসব ব্যক্তি ও সংগঠনের তালিকাগুলো নেয়নি, কোনো মতামতও নেয়নি। এসব কারণে
সরকারের ভালো একটি উদ্যোগ এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।'
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি ও একাত্তরের গেরিলা
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, 'এ তালিকা তৈরিতে সংশ্নিষ্টরা দায়িত্বহীনতা
এবং খামখেয়ালির পরিচয় দিয়েছেন। সরকারের যেসব মন্ত্রণালয় এ তালিকা তৈরির
সঙ্গে সংশ্নিষ্ট ছিল, সেই সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জাতির কাছে ক্ষমা
চেয়ে পদত্যাগ করা উচিত। সরকারি প্রশাসনের কারা এ ধরনের ঘটনায় জড়িত, তাও
নিশ্চিত হওয়া দরকার।' তিনি বলেন, 'বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের
পরিবর্তে লুটপাট, দলবাজি, আত্মীয়করণের মাধ্যমে দেশকে ক্রমাগত মুক্তিযুদ্ধের
চেতনা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব থেকে জাতির দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই এ
ধরনের বিতর্কিত রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে কি-না, সেটাও বিবেচনা
করে দেখা দরকার।
গোলাম আরিফ টিপুর ক্ষোভ :স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ
করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউর গোলাম আরিফ টিপু।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, 'রাজাকার তালিকায় আমার নাম যুক্ত থাকায় আমি
বিস্মিত, হতবাক ও অপমানিত। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাজাকার তালিকা প্রকাশের
ক্ষেত্রে সীমাহীন অবহেলার সঙ্গে কাজ করেছে।' তিনি জানান, তার ঘটনাবহুল
কর্মময় জীবন বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বায়ান্নর ভাষা
আন্দোলন থেকে শুরু করে '৫৪, '৬২, '৬৬, '৬৯, '৭০-এর সব আন্দোলন এবং ১৯৭১
সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তিনি যে একুশে পদক পেয়েছেন, তাও সবাই
জানেন। ২০১৩ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বিশেষ গেরিলা
বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে তাকে
মুক্তিযোদ্ধা সনদও দেওয়া হয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও পান।
গোলাম আরিফ টিপু বলেন, 'বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের
চিফ প্রসিকিউটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আমাকে নিয়োগ দেওয়ার আগে নিশ্চয়ই
অনেক যাচাই-বাছাই করেছে। তাই কীভাবে রাজাকার-আলবদর তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার
নাম এলো, তা খুঁজে বের করতে হবে।' তিনি বলেন, 'আশা করছি, মন্ত্রণালয় তাদের
ভুল বুঝতে পারবে এবং খুব দ্রুত সংশোধনী দিয়ে তা নতুন করে প্রকাশ করবে।'
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম বলেন, 'সংবাদ
সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এই তালিকা প্রকাশের সময় দাবি করেছিলেন,
যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে এই তালিকা করা হয়েছে। অথচ তালিকায় স্বীকৃত
মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আছে দেখে তিনি বলছেন, তার মন্ত্রণালয় কিছুই করেনি,
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেমন তালিকা দিয়েছে, তেমনই প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এই তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যথেষ্ট যাচাই-বাছাই করেনি। তাহলে কার বক্তব্য
গ্রহণ করা হবে?'
অ্যাডভোকেট জেয়াদ বলেন, ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
থেকে তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ আব্দুল মতিনকে
নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে জানা গেলে, সেই মতিন ইসলামী ছাত্র সংঘের বরিশাল
শাখার সভাপতি ছিলেন, একাত্তরে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দিয়ে পাকিস্তানি
বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন। এমন একজন লোককে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে কীভাবে
নিয়োগ দেওয়া হয়, জাতি কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাবও এখনও পায়নি। বিভিন্ন
মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে চেপে বসে আছে জামায়াত-শিবির। সরকারের বিভিন্ন
কার্যক্রমকে ঘিরে তারা ষড়যন্ত্রও করছে। এ তালিকাও হয়তো তারই ফল। যেভাবেই
ঘটুক না কেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের এ কাণ্ডে গোটা জাতিই ক্ষুব্ধ।'
দুই মন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য :এদিকে গতকাল রাজধানীর শিল্পকলা
একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, 'ব্যাপকভাবে অভিযোগ
পাওয়া গেলে গত রোববার প্রকাশিত স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকাটি প্রত্যাহার করা
হবে। আর 'দুই-একশ' নামে ভুল হলে সংশোধন করা হবে। তবে ওই ভুলের জন্য
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায় নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া
তালিকা হুবহু প্রকাশ করা হয়েছে, কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।'
অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কৃষক লীগের আলোচনা সভার পর সাংবাদিকদের
প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন,
'রাজাকারদের সম্পর্কে যেসব তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ছিল,
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সেগুলো চেয়েছিল। সে অনুযায়ী তা পাঠানো হয়েছিল।
এটি একটি দুরূহ ব্যাপার ছিল। কারণ, দালাল আইনে ১৯৭২ সালে যাদের নামে মামলা
হয়েছিল, তদন্ত শুরু হয়েছিল, পরে তাদের কারও কারও মামলা প্রত্যাহার হয়েছিল।
এসব ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি নোট দেওয়া হয়। সেই নোটে
যাদের মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তাদের নাম ও মামলার উল্লেখ ছিল। কিন্তু
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় পুরোপুরিভাবে সেসব উল্লেখ করেনি।' তিনি বলেন,
'ভুল করে হোক আর যেভাবেই হোক, এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। আশা করব, এখন আরও
যাচাই-বাছাই করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আবার তালিকা প্রকাশ করবে।'
যে প্রক্রিয়ায় তালিকা :স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের
অতিরিক্তি সচিব (রাজনৈতিক ও আইসিটি) আবু বকর ছিদ্দীক বলেন,
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাজাকারের কোনো
তালিকা চাওয়া হয়নি। তারা চেয়েছিল, দালাল আইনে ১৯৭২ সালে যাদের নামে মামলা
হয়েছিল তাদের নামের তালিকা। তাদের সেই পুরোনো তালিকা পাঠানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করেনি। কারণ, এ মন্ত্রণালয়ে
রাজাকারদের নিয়ে কোনো কাজ করা হয় না। এখানে তাদের কোনো তালিকাও নেই। তাই এ
তালিকা প্রকাশের আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়েরই যাচাই-বাছাই করা উচিত
ছিল। কারণ তখন শত্রুতার জের ধরে অনেকের নাম যুক্ত করা হতে পারে। বর্তমানে
মাদকের মামলাতেও অনেকের নাম এভাবে যুক্ত করা হয়ে থাকে। সে সময় তালিকা
প্রণয়নেও ভুল থাকতে পারে। এ ছাড়া দালাল আইন ১৯৭২-এর আওতায় আটক যেসব
ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ছিল না তাদের ক্ষমাও
করা হয়েছিল। সে হিসেবে এই তালিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, রাজাকারের তালিকা প্রত্যেক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে
আছে। কারণ রাজাকাররা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বেতন নিত। সেই তালিকা
দেখে তাদের প্রকৃত তালিকা বের করা সম্ভব। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের দালাল আইনে
যাদের নামে অভিযোগ এসেছিল, তাদের মধ্যে ৯৯৬ জন তখনই অব্যাহতি পেয়েছেন।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব মনীষা
চক্রবর্তীর বাবা তপন কুমার চক্রবর্তীসহ ৪৮১ জন একই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন।
পরে তারা প্রত্যেকে অব্যাহতি পান। সে বিষয়ে তালিকায় স্পষ্ট নোট দেওয়া
হয়েছে। জেলা কমিটির সুপারিশের কারণেও তখন অনেকের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া
হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যে নোট ছাড়াই রাজাকারের তালিকা প্রকাশ
করেছে, সে বিষয়টি এখন গোপন করছে।
সমকালের বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান
বলেন, সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। জেলা
প্রশাসনের কাছে যে তালিকা রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তালিকার
সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রশাসনের
কাছে অফিসিয়ালি কখনই রাজাকারের তালিকা চাওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে তারা কিছু
জানেনও না। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মহিউদ্দিন
মানিক বীরপ্রতীক বলেন, বরিশালের রাজাকারের তালিকা প্রণয়নের কাজে
মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে কখনই সম্পৃক্ত করা হয়নি। অথচ সঠিক তালিকা মুক্তিযোদ্ধা
সংসদের কাছেই আছে।
