একনেক সভা
পিইসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:৩৪
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার বিষয়ে নতুন কিছু ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, শিশুদের পরীক্ষা নিয়ে বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। বইয়ের ভার কমিয়ে শিশুদের আনন্দে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ঢাকা মহানগর ও পূর্বাচলে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত এক প্রকল্পের অনুমোদনের সময় এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক পরবর্তী সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাচ্চাদের ওপর পরীক্ষার অনেক চাপ যাচ্ছে। শুধু পরীক্ষা আর পরীক্ষা। বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যে পিইসি পরীক্ষা নেওয়া হয়, এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। পিইসি নিয়ে নতুন কিছু ভাবতে হবে।'
পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, পিইসি পরীক্ষা থাকবে কি-না, তা পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বাচ্চাদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অনেক মন্তব্য করেছেন, আলোচনা করেছেন। বাচ্চারা অনেক বেশি বই কাঁধে নিয়ে যায়, কষ্ট হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে আরও নতুন নতুন চিন্তাভাবনা করার জন্য। মূল কথা হলো-শিশুদেরকে এই ভার থেকে মুক্ত করতে হবে। তারা যেন খেলাধুলা করতে পারে। শিশুদের বইয়ের ভার কমিয়ে, আনন্দ বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
চামড়া শিল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, হাজারীবাগে যখন সব চামড়ার কারখানা ছিল, তাদের পাশে কিছু লোক ছিল যারা ট্যানারির মালিক না। তারা হাড়-গোড় দিয়ে বাই-প্রোডাক্ট শিল্প বানাত। এখন চামড়া শিল্প সাভারে গেছে। সেখানেও বাই প্রোডাক্ট যারা তৈরি করতো তাদের ব্যবস্থা রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যারা বাই প্রোডাক্ট শিল্প গড়তে চায়, তারা যেনো সুযোগ পায়।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, শিল্পমন্ত্রী, শিল্প সচিব বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে, বাই প্রোডাক্ট শিল্পের জন্য জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা যেতে চান, তাদের জন্য ব্যবস্থা রাখা হবে।
একনেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের 'ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ' প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক সভা। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগরীর ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া উত্তরাতে ৩টি ও পূর্বাচলে ১১টিসহ মোট ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুনভাবে স্থাপন করা হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া হাওড় এলাকার নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নেওয়া ৯৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক সভা।
মঙ্গলবার একনেক সভায় এই প্রকল্পসহ মোট ৯ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬১১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৯২ কোটি টাকা ব্যয়ের নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার এবং বাল্ক্ক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। মোংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে ৪০১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা।
এছাড়া ফরিদপুর টেপটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প, মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসির জন্য অফিসার্স মেস ও বিওকিউ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদন করা হয়েছে প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয়ের দেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প। ২৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ব্যয়ের এই প্রকল্পের মাধ্যমে এক লাখ ২ হাজার ৪০০ জন তরুণ তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত চলবে এ প্রকল্প। এছাড়া চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আগামী বছর জুনের মধ্যে শেষ হবে আলোচিত এই প্রকল্প। ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৫ কোটি টাকা।
- বিষয় :
- পিইসি
- একনেক
- একনেক সভা
- প্রধানমন্ত্রী
