ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ঢাবি দর্শন বিভাগ অ্যালামনাইর একযুগ

প্রাণের টানে প্রাণপ্রবাহে

প্রাণের টানে প্রাণপ্রবাহে
×

শুক্রবার ঢাবির টিএসসি মিলনায়তনে দর্শন বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদসহ অতিথিরা -সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২০ | ১১:৪২

সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। শীতের সকালে এমন বৃষ্টিতে লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমটা জমে ভালো। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই মেতেছিলেন আড্ডা, গান আর স্মৃতিচারণে। তাদের মেলবন্ধনের সেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের একযুগ পূর্তি। এ উপলক্ষে শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) প্রাণের টানে তারা মিলিত হন 'প্রাণপ্রবাহে'।

উদ্বোধনী নৃত্য, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ ও অ্যালামনাইর প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করার মধ্য দিয়ে সকালে টিএসসি মিলনায়তনে এ পুনর্মিলনীর উদ্বোধন করা হয়। অ্যালামনাইর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. সাজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ। এতে বক্তব্য দেন অ্যালামনাইর সাধারণ সম্পাদক মাহফুজা রহমান চৌধুরী বাবলী। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যালামনাইর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আজিজুন্নাহার ইসলাম।

উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা দেশের নানা প্রান্ত থেকে, নানা জনপদ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। কেননা, আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার মূল্যায়ন করা হয় এবং এখানে এসে শিক্ষার্থীরা মেধার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ পায়। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেক দায়িত্ব আছে। কোনো শিক্ষার্থীই যাতে অর্থাভাবে ঝরে না পড়ে, এটা দেখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমনওয়েলথভুক্ত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠনের 'অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজ' সদস্য হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বাড়ছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো 'ইনডেক্সে' এগিয়ে যাওয়া। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে অ্যালামনাইদের উদ্যোগে গবেষণা তহবিল গড়ে তোলার আহ্বানও জানান তিনি।

এ. কে. আজাদ বলেন, যারা অ্যালামনাইর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত। তাদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। তাদের তেমন সঞ্চয় থাকে না বললেই চলে। যারা ধনিক শ্রেণির, যাদের কাছে দেশের মোট সম্পদের প্রায় ৯০ ভাগ, তারা অ্যালামনাইর সঙ্গে সক্রিয় নেই। তাদের যদি অ্যালামনাইর সঙ্গে যুক্ত না করা যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ঘটবে না। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি, নিজ বিভাগের প্রতি অ্যালামনাইদের দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের যে উত্তরসূরি রয়েছে, তাদের দায়িত্ব নিলে কোনো অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে না।

অনুষ্ঠানে অ্যালামনাইর ছয়জন খ্যাতিমান ও বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের সম্মাননা জানানো হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব মিঞা, ড. মোহাম্মদ আবদুর রশিদ, অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম, প্রশান্ত কুমার সাহা, রুকুন উদ্দিন ও সৈয়দ কামরুল ইসলাম। পরে অতিথিদের উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া এবং পুনর্মিলনীর ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে পুনর্মিলনী উপলক্ষে স্মরণিকা 'প্রাণপ্রবাহ'-এর মোড়ক উদ্বোধন করেন অতিথিরা।

আরও পড়ুন

×