শুধু খালেদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন ৪১০ কোটি টাকা
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৪২
ক্যাসিনোকাণ্ডে মানি লন্ডারিং বা মুদ্রা পাচার আইনে করা মামলার তদন্ত প্রায়
শেষ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। তদন্তে এখন পর্যন্ত যুবলীগ
দক্ষিণের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব
নম্বরেই ৪১০ কোটি ৩০ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই অর্থের মধ্যে
২৭৮ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকে রয়েছে ২৯ কোটি ৬৫ লাখ
টাকা। এই অর্থের বৈধ সোর্স দেখাতে পারেননি তিনি। তার মোট ব্যাংক হিসাব আছে
৫২টি। সিআইডির দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে
জানতে চাইলে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ সমকালকে বলেন, মানি লন্ডারিং
আইনে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চলতি মাসেই চার্জশিট দেওয়া হবে। তাদের অবৈধ
অর্থ-সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে। ক্যাসিনোকাণ্ডের পর ১২ জনের অবৈধ সম্পদের
হিসাব খুঁজছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। এর মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে
মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হয়েছে। ঠিকাদার মোগল জি কে বিল্ডার্সের কর্ণধার
জি কে শামীমের ব্যাংকে পাওয়া গেছে ৩২৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। তার ব্যাংক হিসাব
রয়েছে ১৯৪টি।
অনলাইন ক্যাসিনো কারবারি সেলিম প্রধানের থাইল্যান্ডে বাগানবাড়ি থাকার তথ্য
পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তিনি। এস-সেভেন, টি-২১,
পি-২৪, প্রধানস স্পা হাউস, প্রধানস ফ্যাশন হাউস, প্রধানস ল' ফার্ম, প্রধানস
হাউস, এসডি কনসালটিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ফিশিং কোম্পানি,
জাপান-বাংলাদেশ প্রিন্টিং প্রেসসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। তার মোট
৮৩টি ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে।
ক্যাসিনো হোতা দুই ভাই এনামুল হক ওরফে এনু ভূঁইয়া ও রুপন ভূঁইয়ার ২০টি বাড়ি
থাকার তথ্য মিলেছে। তাদের ৯১টি ব্যাংক হিসাব নম্বরে ১৯ কোটি ১১ লাখ টাকা
রয়েছে। তিনটি প্রাইভেটকার ও তিনটি মোটরসাইকেলের মালিক তারা।
কাউন্সিলর পাগলা মিজানেরও বিপুল অর্থ ও সম্পদের খোঁজ মিলেছে। মোহাম্মদপুরে
তার একটি মার্কেট রয়েছে। স্বপ্নপুরী হাউজিংয়ে আছে চারটি ফ্ল্যাট। পুরানা
পল্টনে রয়েছে পাঁচতলা বাড়ি। আওরঙ্গজেব রোডে দুই হাজার ২০০ বর্গফুটের
ফ্ল্যাট। এ ছাড়া যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের
দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। আরও যাচাই-বাছাই শেষে তার
বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা করা হবে।
সূত্র জানায়, জি কে শামীম ক্যাসিনো জুয়ার সঙ্গে জড়িত। তিনি অস্ত্রের ভয়
দেখিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে টেন্ডার ছিনতাই করতেন। দেহরক্ষীর
বিশাল বহর নিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিনি চাঁদাবাজিও করতেন। তিনি বিপুল
পরিমাণ অর্থের মালিক। এখন পর্যন্ত হাজার কোটি টাকার ওপর সম্পদ জি কে
শামীমের পাওয়া গেছে। ওই সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা দিতে
পারেননি তিনি।
জানা গেছে, যুবলীগের অন্তত দু'জন শীর্ষ নেতাকেও মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিতেন
শামীম। তাদের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতেন। এ ছাড়া আরও
কয়েকজন বড় সরকারি কর্মকর্তাও শামীমের টাকার ভাগ পেতেন। তাদের ব্যাপারে তথ্য
নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ
কর্মকর্তা জানান, শামীম নিজেই কমিশনের অর্থ বণ্টন করতেন। অধিকাংশ সময় কমিশন
হিসেবে নগদ টাকা দিতেন। মাঝেমধ্যে শামীমের দু'জন বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমে
কমিশনের টাকা পৌঁছে দেওয়া হতো। শামীম প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা ও কিছু
নেতাকে ম্যানেজ করেই 'ঠিকাদার মোগলে' পরিণত হয়েছেন। তদন্তে জি কে শামীমের
কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার মাসোহারা ও কমিশন যেসব সরকারি কর্মকর্তা পেয়েছেন,
তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
