ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে হাসপাতালে ৩৭ শিক্ষার্থী

নলকূপে কীটনাশক জাতীয় বিষ ঢালার অভিযোগ

বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে হাসপাতালে ৩৭ শিক্ষার্থী
×

৩৭ জন শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। ছবি: সমকাল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ১৯:৪১

বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে অন্তত ৩৭ শিক্ষার্থী। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।

বিদ্যালয়ের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে– মঙ্গলবার সকালে কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষি জমিতে ব্যবহারের তরল কীটনাশক ঢেলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা না জেনে সেই পানি পান করার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে।

নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, ৩৭ জন শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৬ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার জানায়, ঝালমুড়ি খাওয়ার পর তারা কয়েকজন স্কুলের পাশের নলকূপের পানি পান করে। এরপর বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। শিক্ষকরা পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর দাবি, সবাই ঝালমুড়ি খায়নি। কেউ কেউ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল জানান, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে কীটনাশক বা বিষ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করেছে। যে কারণে নলকূপের পানি পান করে শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এটি কোনো নাশকতা কিনা, তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহমেদ বলেন, এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এই পেস্ট নলকূপের পানির মধ্যে মেশানোর কারণে বিষক্রিয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীরের ভাষ্য, ৩৭ শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম জানান, খবর শুনেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখন অনেকটাই সুস্থ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, পানিতে কোনো কিছু মেশানো হয়েছে কিনা এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নলকূপের পানি পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×