ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

শিক্ষার্থীকে দিয়ে এসএসসির খাতা মূল্যায়ন, ভিডিও ভাইরাল

শিক্ষার্থীকে দিয়ে এসএসসির খাতা মূল্যায়ন, ভিডিও ভাইরাল
×

ছবি: সমকাল

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ২০:১৯ | আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ | ২০:২০

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আবদুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজে খাতা মূল্যায়ন না করে বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়। এই ঘটনার তদন্ত চেয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে অলি আহাম্মেদ খান ও শরিফুল ইসলাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পান আবদুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়া। তবে তিনি বোর্ডের নির্দেশিত নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাতাগুলো বিদ্যালয়ের মো. মেহেদী নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়ন করান। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এতে উত্তরপত্রের সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

লিখিত আবেদনে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগকারী অলি আহাম্মেদ খান ও শরিফুল ইসলাম জানান, তারা কোনো ব্যক্তি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চান না। তবে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং পরীক্ষার্থীদের ন্যায্য মূল্যায়নের স্বার্থে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং এখানে সামান্য অনিয়মও শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার ফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তার ভাষ্য, পরীক্ষার্থীকে দিয়ে এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন তারা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×