ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ঢাকার চিড়িয়াখানায় ৪ বিদেশি অতিথি

ঢাকার চিড়িয়াখানায় ৪ বিদেশি অতিথি
×

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় ৪ বিদেশি অতিথি। ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ১৯:২৫

ঢাকার বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় এবার যুক্ত হলো আফ্রিকার তৃণভূমির চার নতুন অতিথি। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছে দুটি কমন ইল্যান্ড (একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী) এবং দুটি পুরুষ ওয়াইল্ডিবিস্ট। নতুন এই প্রাণীগুলোর আগমনে চিড়িয়াখানার প্রাণী বৈচিত্র্য যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি দর্শনার্থীদের জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন আকর্ষণ।

মঙ্গলবার প্রাণিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ সময় তিনি বলেন, দেশের চিড়িয়াখানাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা ও বিনোদনের সমন্বয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, নতুন প্রাণীর সংযোজন তারই অংশ।

কমন ইল্যান্ড আফ্রিকার সবচেয়ে বড় অ্যান্টিলোপ প্রজাতিগুলোর একটি। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ইল্যান্ডের ওজন ৯০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। আকারে বিশাল হলেও প্রাণিগুলো স্বভাবত শান্ত এবং দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকার তৃণভূমি, ঝোপঝাড় এবং উন্মুক্ত বনাঞ্চলে এদের বসবাস। পুরুষ ও স্ত্রী উভয়েরই শিং থাকে, তবে পুরুষদের শিং তুলনামূলক মোটা ও শক্তিশালী। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া এবং কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতার জন্য প্রাণিটি পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন বড় চিড়িয়াখানায় কমন ইল্যান্ড জনপ্রিয় প্রদর্শনী প্রাণী হিসেবে রাখা হয়। তাদের বিশাল দেহ, শান্ত স্বভাব এবং আফ্রিকান বন্যপ্রাণীর প্রতিনিধিত্ব দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।

ওয়াইল্ডিবিস্ট, যা অনেকের কাছে 'গ্নু' নামেও পরিচিত, আফ্রিকার সবচেয়ে পরিচিত তৃণভোজী বন্যপ্রাণিগুলোর একটি। দেখতে অনেকটা গরু ও মহিষের সংমিশ্রণের মতো হলেও এটি অ্যান্টিলোপ পরিবারের সদস্য। আফ্রিকার বিখ্যাত সেরেঙ্গেটি অঞ্চলে প্রতি বছর লাখো ওয়াইল্ডিবিস্টের অভিবাসন বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। খাদ্য ও পানির সন্ধানে শত শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এরা এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যায়। দ্রুতগতিতে দৌড়াতে সক্ষম এই প্রাণী ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। শক্তিশালী শিং ও দলবদ্ধ জীবনধারা তাদের শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, চিড়িয়াখানায় নতুন প্রাণী যুক্ত হওয়া শুধু দর্শনার্থীদের বিনোদনের বিষয় নয়- এটি শিক্ষা, গবেষণা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গেও সম্পর্কিত। নতুন প্রজাতি যুক্ত হলে শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাণীর আচরণ, খাদ্যাভ্যাস ও বাস্তুসংস্থান সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। একই সঙ্গে প্রাণিবৈচিত্র্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগ্রহও বাড়ে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় বর্তমানে এশিয়া, আফ্রিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু প্রাণী রয়েছে। নতুন ইল্যান্ড ও ওয়াইল্ডিবিস্ট সংযোজিত হওয়ায় আফ্রিকান প্রাণী সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ হলো।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, শিশু-কিশোরদের জন্য এই প্রাণীগুলো হবে বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। বই বা টেলিভিশনের পর্দায় দেখা আফ্রিকার বিশাল তৃণভূমির প্রাণীগুলোকে এবার কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলবে।নতুন প্রাণীগুলোর আগমনে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়বে এবং প্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন

×