পুনর্গঠন করা পর্ষদ ২ বছরের বেশি থাকার বাধা কাটল
ফাইল ফটো
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৬ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ পতনের পর জালিয়াতিতে অভিযুক্ত ব্যাংক পরিচালকদের অনেকে পালিয়েছেন। এ রকম ১৪টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য পর্ষদ বাতিল করা যায়। তবে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে পুনর্গঠিত এসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ধারা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে দুই বছরের বেশি সময় থাকার ক্ষেত্রে আইনি বাধা কেটেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, ৪৭(২) ধারায় উল্লিখিত পরিচালনা পর্ষদ বাতিল আদেশের মেয়াদ-সংক্রান্ত বিধান সব ব্যাংক-কোম্পানির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রযোজ্য হবে না। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(১) ধারার আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোনো ব্যাংকের আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষায় পর্ষদ বাতিল করতে পারে। এই ধারায় বলা আছে, ওই পর্ষদ বাতিলের মেয়াদ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময়ে সময়ে বাড়াতে পারবে। তবে বর্ধিত মেয়াদ দুই বছরের বেশি হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ৪৭ ধারার আলোকে মোট ১৪টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দেয়। ব্যাংকগুলোর মধ্যে শুধু আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার ভার সম্প্রতি উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলমের ভাই আব্দুস সামাদ লাবু। এর বাইরে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল, ইউনিয়ন, ন্যাশনাল ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে পুনর্গঠিত পর্ষদের মাধ্যমে। এ ছাড়া এস আলমের মামাতো ভাই সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পরিবারমুক্ত করা হয় ইউসিবি ব্যাংক। আর ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার মুক্ত করা হয় এক্সিম ব্যাংক।
সালমান এফ রহমান পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করে স্বতন্ত্র পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয় সাবেক এমপি ডা. ইকবালের কর্তৃত্বে পরিচালিত প্রিমিয়ার ব্যাংকের পর্ষদ। এ ছাড়া প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এস এম তমাল পারভেজের কর্তৃত্বে পরিচালিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, মাহতাবুর রহমানের কর্তৃত্বে পরিচালিত এনআরবি এবং সাবেক এমপি এ এন এম আশিকুর রহমানের কর্তৃত্বে পরিচালিত মেঘনা ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়।
দুর্বল এসব ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ও ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। বাকি ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঠিক করে দেওয়া পর্ষদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
- বিষয় :
- ব্যাংক
- বাংলাদেশ ব্যাংক